ইয়েমেনে হুথি বাহিনীর ভয়াবহ হামলা, সরকারি বাহিনীর অন্তত ১৫ সেনা নিহত।

হুথী বাহিনী

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের একটিতে ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় হোদেইদা (হুদাইদাহ) প্রদেশে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অন্তত ১৫ জন সেনা নিহত হয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২২ জন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সামরিক ও চিকিৎসা সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হোদেইদা প্রদেশের হাইস জেলার জাবাল দুবাস (Jabal Dubas) এলাকায় সরকারি বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে হুথি যোদ্ধারা ব্যাপক আক্রমণ চালায়। হামলায় ভারী অস্ত্র, মর্টার, ড্রোন এবং স্নাইপার ব্যবহার করা হয়। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী তুমুল গোলাগুলির পর সরকারি বাহিনী হামলা প্রতিহত করে এবং নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়। তবে সংঘর্ষে সরকারি বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চিকিৎসা সূত্র জানায়, সংঘর্ষের পর আশপাশের হাসপাতালগুলোতে অন্তত ১৫ থেকে ১৬ জন নিহত সেনার মরদেহ এবং ২২ জন আহত সেনাকে আনা হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সরকার-সমর্থিত এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, হুথি যোদ্ধারা ভোরের আগে একাধিক দিক থেকে সরকারি বাহিনীর প্রতিরক্ষা অবস্থানে হামলা চালায়। হামলার লক্ষ্য ছিল পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করে কৌশলগত এলাকা দখল করা। তবে দীর্ঘ সময়ের লড়াইয়ের পর সরকারি বাহিনী পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকিয়ে দেয়। সংঘর্ষে হুথি বাহিনীরও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সংখ্যা জানানো হয়নি। ইয়েমেন সরকারের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের সদস্য ও রাষ্ট্রীয় মন্ত্রী ওয়ালিদ আল-কুদাইমি হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, পশ্চিম উপকূলে সরকারি বাহিনীর ওপর হুথিদের হামলার মাত্রা বেড়েছে। তিনি সেনাদের সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেন এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হোদেইদা অঞ্চলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লেও এত বড় প্রাণহানির ঘটনা দীর্ঘ সময় পর ঘটল। এ হামলা যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা এবং জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় চলমান রাজনৈতিক সমাধানের উদ্যোগকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলতে পারে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরসংলগ্ন অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। ২০১৪ সালে হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করার পর থেকে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ চলছে। এ সংঘাতে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং দেশটি বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখোমুখি। বিভিন্ন সময়ে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান এখনো অধরাই রয়ে গেছে।

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন