জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের অটোরিকশা চালক নায়েব আলী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অটোরিকশা ছিনতাই করে বিক্রির উদ্দেশ্যেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্তসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত সকল আসামি মেলান্দহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২১ জুন ভোরে নায়েব আলী প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং পরবর্তীতে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
কয়েকদিন পর ইসলামপুর উপজেলার বেনুয়ারচর এলাকার একটি ধানখেত থেকে লাগেজবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পিবিআই জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে মূল অভিযুক্ত নাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে, অটোরিকশা ছিনতাই করে বিক্রির উদ্দেশ্যে সহযোগীদের নিয়ে নায়েব আলীকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ একটি লাগেজে ভরে নির্জন স্থানে ফেলে রাখা হয় এবং অটোরিকশাটির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে বিক্রি করার চেষ্টা করে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, মাত্র ১০ হাজার টাকার লোভে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। গ্রেপ্তার হওয়া অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চোরাই অটোরিকশার যন্ত্রাংশ কেনাবেচা ও নানা অপরাধের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা ।
অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত জিআই তার, নিহতের মোবাইল ফোন এবং অটোরিকশার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই তদন্ত শুরু করা হয়। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য এবং মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানের মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, আসামি গ্রেপ্তার এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।
নায়েব আলীর মর্মান্তিক মৃত্যু শুধু তার পরিবারকেই নয়, পুরো এলাকাকে শোকাহত করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, একজন পরিশ্রমী অটোচালককে সামান্য অর্থের লোভে হত্যা করা অত্যন্ত নৃশংস ও মানবতাবিরোধী কাজ। আসামীদের দ্রুত বিচার এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।এই দাবীতে,
মেলান্দহ সদর উপজেলায়, উপজেলা পরিষদ এর সামনে ও মেলান্দহ বাজারে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রদক্ষিন করে এলাকাবাসী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন