জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলায় ১০ নং ঝাউগড়া ইউনিয়নের ইন্দ্রবাড়ি গ্রামে বাপ-দাদার মালিকানাধীন জমি ভুলবশত মসজিদের নামে রেকর্ড হওয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ ঘটনায় ইন্দ্রবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং ইন্দ্রবাড়ি জামে মসজিদের সভাপতি ফেরদৌস হাসান ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে জমি দখল, হয়রানি এবং মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ তুলেছেন কয়েকটি ভুক্তভোগী পরিবার।
ভুক্তভোগীদের দাবি, রেকর্ডের ভুলকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা তাদের মালিকানাধীন জমির ওপর পাকা দেয়াল নির্মাণ করে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে তারা নিজস্ব জমিতে প্রবেশ এবং স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন।
তাদের অভিযোগ, প্রায় ৩ লাখ টাকার একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মামলার সুযোগ নিয়ে তাদের জমির একটি অংশ জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
এছাড়া ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মসজিদ কমিটি তাদের মালিকানাধীন আরও কিছু জমি দখল করে সেখানে অজুখানা নির্মাণ করেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত জমির মালিকানা যাচাই, দখলকৃত জমি ফেরত, কথিত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগের বিষয়ে ইন্দ্রবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ইন্দ্রবাড়ি জামে মসজিদের সভাপতি ফেরদৌস হাসান বলেন, "হ্যাঁ, আমি মিথ্যা মামলা করেছি। তবে দুই শতাধিক মানুষের স্বাক্ষর নিয়ে সেই মামলাকে সত্য প্রমাণ করব।" এমন বক্তব্য তিনি দিয়েছেন বলে অভিযোগকারী পক্ষ দাবি করেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন