জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অভিযান, 'ঘরের বাজার' কে জরিমানা।

ঘরের বাজার, জামশেদ মজুমদার

ডেস্ক রিপোর্ট : নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্যপণ্য সরবরাহের দাবিতে পরিচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ঘরের বাজার এবার পড়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নজরে। কর-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৫১৪ টাকা জরিমানা করেছে এনবিআর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজস্ব বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। 

জানা গেছে, ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ করবর্ষে আয়কর আইনের ১৪৭ ধারার আওতায় প্রতিষ্ঠানটির কর নথি ও কার্যক্রম পর্যালোচনা করে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর এই আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হয়। তবে এনবিআর এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে জরিমানার বিস্তারিত কারণ ব্যাখ্যা করেনি। এনবিআরের এই পদক্ষেপের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ঘরের বাজারের বিভিন্ন পণ্য ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম। বিশেষ করে কিছু ভোক্তা অতীতে প্রতিষ্ঠানটির এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল, মধুসহ কয়েকটি পণ্যের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি। তাই অভিযোগগুলোকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ঘটনাটি নিয়ে বক্তব্য জানতে প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নাজমুস সাকিবের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনে সাড়া দেননি। পরে খুদে বার্তায় তিনি জানান, এ বিষয়ে জানতে হলে প্রতিষ্ঠানের লিগ্যাল টিমের সঙ্গে অফিসিয়াল ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হবে। 

অন্যদিকে, ঘরের বাজারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জামশেদ মজুমদারের কাছেও প্রতিক্রিয়া জানতে ফোন ও বার্তা পাঠানো হলেও সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কর বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় কর আইন যথাযথভাবে অনুসরণ, আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং গ্রাহকদের কাছে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলছেন, ই-কমার্স খাতে আস্থা ধরে রাখতে কর পরিপালনের পাশাপাশি ভোক্তা অভিযোগের দ্রুত ও স্বচ্ছ নিষ্পত্তিও নিশ্চিত করতে হবে। এনবিআরের এই জরিমানার পর ঘরের বাজারের ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না আসায় জরিমানার পেছনের পূর্ণাঙ্গ কারণ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এলে পুরো ঘটনা আরও পরিষ্কার হবে।

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন