ডেস্ক রিপোর্ট : বান্দরবানের থানচি উপজেলার সাঙ্গু নদীর উজানে তিন্দুর বড় পাথর এলাকায় পানির তীব্র স্রোতে একটি পর্যটকবাহী নৌকা ডুবে গেছে। তবে মাঝির তাৎক্ষণিক বিচক্ষণতায় নৌকায় থাকা পাঁচ পর্যটক এবং চালক আগেই নিরাপদে তীরে নেমে যাওয়ায় এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা নিখোঁজের ঘটনা ঘটেনি। সোমবার (৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রেমাক্রী থেকে থানচির উদ্দেশ্যে ফেরার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল নৌকাডুবির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী অংক্য থুই মারমা জানান, রেমাক্রী থেকে ফেরার পথে নৌকাটি তিন্দুর বড় পাথর এলাকায় পৌঁছালে প্রবল স্রোত ও ঢেউয়ের মুখে পড়ে। পরিস্থিতির ঝুঁকি বুঝতে পেরে মাঝি বিপজ্জনক স্রোতধারায় প্রবেশের আগেই নিরাপদ স্থানে নৌকাটি ভিড়িয়ে পাঁচ পর্যটককে নামিয়ে দেন। পরে খালি নৌকাটি স্রোত পার করার চেষ্টা করলে ঢেউয়ের তীব্র আঘাতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে ডুবে যায়।
ইউএনও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল জানান, টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণের কারণে সাঙ্গু নদী ও আশপাশের ছোট ছোট ছড়ায় পানির প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে নদীপথে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আপাতত তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুম এলাকায় ভ্রমণের বিষয়ে মৌখিক সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এসব এলাকায় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।এদিকে থানচি গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ জানান, বৈরী আবহাওয়া ও নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাঙ্গু নদীর উজানের তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুম এলাকায় প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন পর্যটক অবস্থান করছেন। নদীপথ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তারা নিরাপদ পরিস্থিতির অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে পর্যটক আটকে পড়ার বিষয়ে প্রশাসনের কাছে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছেন ইউএনও।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক পানির স্রোত বেড়ে যাওয়ায় সাঙ্গু নদীতে নৌযান চলাচলে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুমগামী পর্যটকদের আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে ভ্রমণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন