প্রগতি বার্তা
ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...
◷ 00:00:00

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা: তেল সরবরাহে শঙ্কা, বিশ্ববাজারে বাড়ছে দাম।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলরত তেলবাহী ট্যাংকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এশিয়ার লেনদেনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ দশমিক ৬৮ ডলারে ওঠে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) অপরিশোধিত তেলের দাম ৬১ সেন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ৮৩ ডলারে। আগের দিন মঙ্গলবারও দুই বেঞ্চমার্কের দাম ৪ ডলারের বেশি বেড়ে পাঁচ সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ১৬ ডলার বা ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৯৪ দশমিক ৬৫ ডলারে বন্ধ হয়। অন্যদিকে WTI-এর দাম ৪ দশমিক ৪৬ ডলার বা ৫ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৯০ দশমিক ২২ ডলারে পৌঁছায়। নতুন সামরিক উত্তেজনায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ আরও বিঘ্নিত হতে পারে—এমন আশঙ্কাই বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার এবং যোগাযোগ অবকাঠামো ছিল।

এর জবাবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্বার্থ ও স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। ইরানের আইআরজিসি জর্ডান, ইরাক ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন হতাহতের কোনো খবর নিশ্চিত করেননি।

জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেশের আকাশসীমার দিকে আসা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। দুই দেশের মধ্যে কয়েক মাসের তুলনামূলক বিরতির পর নতুন করে এ ধরনের সরাসরি সামরিক সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

বিশ্ব তেলবাজারে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবহন করা মোট তেলের প্রায় প্রতি পাঁচ ব্যারেলের এক ব্যারেল এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করত।

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার পর সতর্ক করে বলেছে, এ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আরও সীমিত হতে পারে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ওই প্রণালি দিয়ে মাত্র চারটি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ১০টি, আর আগের ১০ দিনের গড় ছিল প্রায় ১৩টি জাহাজ।

তবে জাহাজের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ থাকার কারণে এই প্রাথমিক তথ্য পরবর্তীতে পরিবর্তিত হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। সোমবার প্রণালি ত্যাগ করা দুটি ট্যাংকারে হামলার পর বাজারে নতুন করে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়।

জ্বালানি বাজারের বিনিয়োগকারীরা এখন শুধু তাৎক্ষণিক হামলার প্রভাব নয়, বরং সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি কতটা ব্যাহত হতে পারে, সেই ঝুঁকিও হিসাব করছেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের সঙ্গে অতিরিক্ত ‘ঝুঁকি প্রিমিয়াম’ যুক্ত হচ্ছে।

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত কমে যাওয়ার তথ্যও বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি করেছে। বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ২৬ লাখ ব্যারেল কমেছে। ডিজেল ও হিটিং অয়েলসহ ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুতও কমেছে।

সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রে মজুত কমে যাওয়ার খবর—দুইয়ের প্রভাবে তেলের দাম বাড়ার প্রবণতা আরও শক্তিশালী হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও বাড়লে শুধু তেলের বাজার নয়, বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। কারণ তেলের মূল্যবৃদ্ধি পরিবহন ব্যয় বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বাংলাদেশের মতো জ্বালানি তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক বাজারের এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় ধরে অপরিশোধিত তেলের দাম বেশি থাকলে আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে এবং এর প্রভাব অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ের ওপর পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এখন বাজারের মূল নজর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আর কতটা বিস্তৃত হয়, সেদিকেই।

 

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন
📢 আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন
প্রগতি বার্তা
আপনার ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের প্রচার করুন
হাজারো পাঠকের কাছে পৌঁছে দিন আপনার বিজ্ঞাপন
progatibarta.com

💬 WhatsApp এ যোগাযোগ করুন
সরাসরি যোগাযোগ: ০১৩০৯০৮১৪৯০

𝑷𝒓𝒐𝒈𝒂𝒕𝒊𝑩𝒂𝒓𝒕𝒂

প্রগতি বার্তা
সত্যের সন্ধানে নির্ভীক