স্পোর্টস ডেস্ক
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে জমজমাট লড়াইয়ের পর বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে আর্সেনাল। বুধবার (২১ অক্টোবর) জার্মান ক্লাবটির মাঠ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শেষ দিকে ডেকলান রাইসের গোলে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট পায় ইংলিশ ক্লাবটি। হ্যারি কেইনের পেনাল্টি গোলে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি বায়ার্ন।
ম্যাচে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় আর্সেনাল। চোটের কারণে প্রথমার্ধেই মাঠ ছাড়তে হয় দলের গুরুত্বপূর্ণ ফরোয়ার্ড বুকায়ো সাকাকে। তবে তার বদলি হিসেবে নামা এবেরেচি এজে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। পরে আলফোনসো ডেভিসের গোলে সমতায় ফেরে বায়ার্ন। দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন কেইন। কিন্তু ৮২ মিনিটে রাইসের দুর্দান্ত ফিনিশে সমতায় ফেরে আর্সেনাল।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে। তবে দশম মিনিটের দিকে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন আর্সেনালের ইংলিশ ফরোয়ার্ড বুকায়ো সাকা। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন এবেরেচি এজে।
সাকার অনুপস্থিতি সামলে দ্রুতই ম্যাচে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে আর্সেনাল। ২৫ মিনিটে মার্টিন ওডেগার্ডের পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এজে। প্রথমে অফসাইডের সিদ্ধান্ত এলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনার পর গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়।
তবে এগিয়ে থাকার আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি সফরকারীদের। ৩৫ মিনিটে হ্যারি কেইনের নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে গোল করেন আলফোনসো ডেভিস। কানাডিয়ান এই ফুটবলারের গোলে ম্যাচে সমতা ফেরায় বায়ার্ন। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ সমতায়।
বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে বায়ার্ন মিউনিখ। আক্রমণে ধার বাড়িয়ে আর্সেনালের রক্ষণভাগকে চাপে রাখে স্বাগতিকরা। অন্যদিকে সুযোগ বুঝে পাল্টা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যায় মিকেল আর্তেতার দল।
৬১ মিনিটে পেনাল্টি পায় বায়ার্ন। আর্সেনালের ডিফেন্ডার জুরিয়েন টিম্বারের হাতে বল লাগার পর স্পটকিকের সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। তার গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বায়ার্ন।
এরপর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও তৈরি করে জার্মানির ক্লাবটি। তবে আর্সেনালের গোলরক্ষক ডেভিড রায়া ও রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় আর গোল পায়নি স্বাগতিকরা। ম্যাচের শেষ দিকে তাই চাপ বাড়তে থাকে বায়ার্নের ওপর।
ম্যাচের ৮২ মিনিটে সমতাসূচক গোলটি পায় আর্সেনাল। বদলি হিসেবে মাঠে নামা ভিক্টর ইয়োকেরেসের সঙ্গে সমন্বিত আক্রমণে বায়ার্নের রক্ষণভাগ ভেঙে দেন ডেকলান রাইস। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে বল জালে পাঠান এই ইংলিশ মিডফিল্ডার।
রাইসের গোলে ২-২ সমতায় ফেরার পর ম্যাচের শেষ সময়ে জয়সূচক গোলের জন্য চেষ্টা চালায় আর্সেনাল। যোগ করা সময়ে জুরিয়েন টিম্বারের একটি শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন বায়ার্ন গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়ে দুই দল।
আর্সেনালের বিপক্ষে গোল করে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা ১০ ম্যাচে গোল করার কৃতিত্ব ধরে রেখেছেন হ্যারি কেইন। এই ধারাবাহিকতায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর টানা ১১ ম্যাচে গোল করার রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছেছেন বায়ার্নের এই স্ট্রাইকার।
আর্সেনালের বিপক্ষেও কেইনের গোল করার ধারাবাহিকতা উল্লেখযোগ্য। তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের পরও দলের জয় নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি। শেষ দিকে রাইসের গোল বায়ার্নের জয়ের আশা শেষ করে দেয়।
ম্যাচে বায়ার্নের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি আলোচনায় ছিল। মাইকেল অলিসে, ইয়োশুয়া কিমিখ ও জামাল মুসিয়ালাকে এদিন পাওয়া যায়নি। তবু কেইনের নেতৃত্বে আক্রমণে কার্যকর ছিল স্বাগতিক দলটি।
অন্যদিকে সাকার চোট আর্সেনালের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলের আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই ফরোয়ার্ডের চোটের অবস্থা পরবর্তী ম্যাচগুলোর আগে নজরে থাকবে।
সব মিলিয়ে, আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় দুই দলের লড়াইয়ে আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ ও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা—সবই ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত রাইসের গোলেই মূল্যবান এক পয়েন্ট নিয়ে ফিরেছে আর্সেনাল, আর ঘরের মাঠে জয়ের সুযোগ হারিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন