প্রগতি বার্তা
ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...
◷ 00:00:00

বিশ্ববাজারে বাড়ছে বাংলাদেশি পোশাকের চাহিদা, দুই মাসে রপ্তানি ৭৫০ কোটি ডলার।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম, বিশ্ববাজারে বাড়ছে পোশাকের চাহিদা

প্রগতিবার্তা ডেস্ক

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের চাহিদা বাড়ার ধারায় নতুন অর্থবছরের শুরুতেই রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে, অর্থাৎ জুলাই ও আগস্টে, তৈরি পোশাক খাত থেকে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ৭৫০ কোটি মার্কিন ডলার বা ৭ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, আগের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল প্রায় ৭১৩ কোটি ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ১২ শতাংশ।

শুধু আগস্ট মাসেই বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৩৮৯ কোটি ডলার। ২০২৫ সালের আগস্টের তুলনায় এ আয় ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি।

আগস্টে দেশের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানিও বেড়েছে। ইপিবির হিসাব অনুযায়ী, এ মাসে বাংলাদেশ প্রায় ৪৪৩ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি।

তৈরি পোশাক শিল্পের প্রধান দুই উপখাত—নিটওয়্যার ও ওভেন পোশাক—দুটিতেই আগস্টে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

আগস্টে—

নিটওয়্যার রপ্তানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ

ওভেন পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ

আর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের হিসাবে—

নিটওয়্যার রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ

ওভেন পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৮১ শতাংশ

এই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা ধরে রাখার পাশাপাশি রপ্তানি সক্ষমতার ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতের প্রবৃদ্ধিতে চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯১৬ কোটি ডলারে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল প্রায় ৮৬৯ কোটি ডলার।

ফলে দুই মাসের ব্যবধানে দেশের মোট পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

আগস্টে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি কয়েকটি অপ্রচলিত ও বহুমুখী রপ্তানি খাতেও ভালো প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এর মধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্য, ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, মুদ্রিত সামগ্রী, প্রকৌশল পণ্য এবং অন্যান্য জুতার রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে।

আগস্টে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৩৭ দশমিক ০৯ শতাংশ, ওষুধে ২৮ দশমিক ৫২ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ২৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং প্রকৌশল পণ্যে ২৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রে আগস্ট মাসে রপ্তানি বেড়েছে ২৬ দশমিক ০৯ শতাংশ। জুলাই-আগস্ট মিলিয়ে দেশটিতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ।

এ ছাড়া যুক্তরাজ্য দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজারের অবস্থান পুনরুদ্ধার করেছে। এর পরের অবস্থানগুলোতে রয়েছে জার্মানি, স্পেন ও নেদারল্যান্ডস। উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্ক, দক্ষিণ কোরিয়া ও সৌদি আরবেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

তবে এই ইতিবাচক রপ্তানি চিত্রের মধ্যেও শিল্প খাতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে শিল্পকারখানাগুলো জ্বালানি সংকটের প্রভাবের মুখে পড়ে। বিশেষ করে বস্ত্রশিল্পের স্পিনিং ও ডাইং কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ ছিল উদ্যোক্তাদের।

তারপরও আগস্টে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রায় ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি শিল্প খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান ধরে রাখতে উৎপাদন সক্ষমতা, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা এবং উচ্চমূল্য সংযোজিত পোশাক উৎপাদনের দিকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, বড় বাজারগুলোতে শক্তিশালী চাহিদা, বাংলাদেশকে নির্ভরযোগ্য সোর্সিং গন্তব্য হিসেবে ক্রেতাদের আস্থা, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির কারণে সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

নিটওয়্যার ও ওভেন—দুই খাতেই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে তুলে ধরছে। একই সঙ্গে অপ্রচলিত পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধিও দেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন
📢 আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন
প্রগতি বার্তা
আপনার ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের প্রচার করুন
হাজারো পাঠকের কাছে পৌঁছে দিন আপনার বিজ্ঞাপন
progatibarta.com

💬 WhatsApp এ যোগাযোগ করুন
সরাসরি যোগাযোগ: ০১৩০৯০৮১৪৯০

𝑷𝒓𝒐𝒈𝒂𝒕𝒊𝑩𝒂𝒓𝒕𝒂

প্রগতি বার্তা
সত্যের সন্ধানে নির্ভীক