প্রগতি বার্তা
ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...
00:00:00

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কুয়েত-জর্ডান-বাহরাইনে মার্কিন অবস্থানে ইরানের পাল্টা হামলা।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলা

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফা সামরিক হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক অবস্থান ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘিরে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায়। হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, রাডার ও যোগাযোগ অবকাঠামো ছিল। এসব হামলার পর ইরান পাল্টা জবাব দেয় এবং জর্ডান ও ইরাকে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়। ইরানি গণমাধ্যমে বাহরাইনেও মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার খবর প্রকাশ করা হয়।

ইরানের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে জর্ডানে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস দাবি করে, তারা জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করে। এর মধ্যে ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দিয়ে ভূপাতিত করা হয়েছে। বাকি তিনটি জনবসতি থেকে দূরের এলাকায় গিয়ে পড়ে।

ইরান দাবি করেছে, তাদের হামলায় বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছে। তবে দুই মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রাথমিক মূল্যায়নে জর্ডানে ইরানি হামলার ঘটনায় মার্কিন বাহিনীর কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে হতাহতের বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে।

কুয়েতেও ইরানের পাল্টা হামলার খবর পাওয়া গেছে। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ‘শত্রুতাপূর্ণ’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি গণমাধ্যমগুলো দাবি করেছে, দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি করা হয়েছে। তবে হামলার ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বাহরাইনেও হামলার আশঙ্কায় সতর্কসংকেত বেজে ওঠে। ইরানি গণমাধ্যম দাবি করে, দেশটিতে মার্কিন সামরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

বাহরাইনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের কয়েকটি ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। তবে ইরানের দাবি করা লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি আঘাত বা সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক এই হামলা-পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে কয়েক মাসের তুলনামূলক বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও সরাসরি সামরিক সংঘাত তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইরানের তৎপরতার জবাবেই তারা ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর হামলা চালিয়েছে। অপরদিকে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে আগ্রাসন হিসেবে বর্ণনা করে পাল্টা জবাব অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

দুই দেশের নতুন সামরিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের বড় একটি অংশের জ্বালানি তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়।

সংঘাত নতুন করে ছড়িয়ে পড়ায় ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। একই সঙ্গে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামও বেড়েছে। রয়টার্সের বাজার প্রতিবেদনে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৯৫ ডলারের ওপরে ওঠার কথা বলা হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে আসা বিভিন্ন দাবির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ইরান কয়েকটি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সফল হামলা ও হতাহতের দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্র সব দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি।

বিশেষ করে জর্ডানে হামলার ক্ষেত্রে ইরান বড় ধরনের মার্কিন ক্ষয়ক্ষতির দাবি করলেও প্রাথমিক মার্কিন মূল্যায়নে কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার খবর এবং প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া গেলেও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।

এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় আকারের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতির পরবর্তী মোড় নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরবর্তী সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন
📢 আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন
প্রগতি বার্তা
আপনার ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের প্রচার করুন
হাজারো পাঠকের কাছে পৌঁছে দিন আপনার বিজ্ঞাপন
progatibarta.com

💬 WhatsApp এ যোগাযোগ করুন
সরাসরি যোগাযোগ: ০১৩০৯০৮১৪৯০

𝑷𝒓𝒐𝒈𝒂𝒕𝒊𝑩𝒂𝒓𝒕𝒂

প্রগতি বার্তা
সত্যের সন্ধানে নির্ভীক