নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রগতি বার্তা
সংকটাপন্ন পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির আমানত ফেরত নেওয়ার আবেদন গ্রহণ শুরুর প্রথম দিনেই প্রায় ১৮ হাজার গ্রাহক আবেদন করেছেন। এসব আবেদনের বিপরীতে গ্রাহকেরা মোট ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা উত্তোলন বা ফেরত চেয়েছেন।
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ব্যাংকটির শাখা ও উপশাখাগুলোতে ব্যক্তি আমানতকারীদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া শুরু হয়। প্রথম দিনেই একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় গ্রাহকদের উপস্থিতি ও ভিড় দেখা যায়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারী গ্রাহকদের মধ্যে ২ হাজার ৩৬৭ জন এককালীন তাদের পুরো আমানত তুলে নেওয়ার আবেদন করেছেন। এই গ্রাহকেরা মোট ২৪৪ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করেছেন।
ব্যাংকটির মোট গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৮৪ লাখ। সেই হিসাবে প্রথম দিনে প্রায় ১৮ হাজার গ্রাহকের আবেদন মোট গ্রাহকের তুলনায় খুবই কম বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মনে করছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবেদুর রহমান সিকদার এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকে জানান, আবেদনকারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থার বিষয়টি প্রতিফলিত হচ্ছে।
আমানত উত্তোলনের আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে যোগ্য গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। গ্রাহকদের সংশ্লিষ্ট শাখা বা উপশাখায় গিয়ে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন জমা দিতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তি আমানতকারীরা তাদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের অর্থ এবং মেয়াদি আমানতের মূল টাকা উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। তবে যারা নির্ধারিত ব্যবস্থার আওতায় আমানতের মূল টাকা তুলে নিয়ে হিসাবের নিষ্পত্তি করবেন, তারা ওই আমানতের বিপরীতে অর্জিত বা প্রাপ্য মুনাফা পাবেন না। অন্যদিকে হিসাব চালু রাখলে চুক্তি অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
আর্থিক সংকটে পড়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো হলো—
এক্সিম ব্যাংক
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক
গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক
ইউনিয়ন ব্যাংক
এই পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া এবং ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিক করার লক্ষ্যেই নতুন কাঠামোর অধীনে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন