গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ ও পূর্ববিরোধের জেরে নুরুল ইসলাম (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন গোপালপুর সোসাইটি মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন সংবাদসূত্রে হামলার সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহত নুরুল ইসলাম গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ী এলাকার মৃত নজরুল ইসলাম ও মালতি বেগমের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে টঙ্গী পূর্ব থানার গোপালপুর এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, গোপালপুর, মরকুন ও পাগাড় এলাকায় মাদক কারবার ও এর নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, এই বিরোধের জের ধরে মঙ্গলবার রাতে কয়েকজন ব্যক্তি নুরুল ইসলামকে তার বাসা থেকে ডেকে গোপালপুর সোসাইটি মাঠ এলাকায় নিয়ে যায়।
এরপর সেখানে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাঁটুর নিচে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, হামলাকারীরা তার পায়ের রগ কেটে দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
পরে হামলাকারীরা তাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাসার দিকে পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পথেই তার মৃত্যু হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। পরবর্তীতে মরদেহের সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে ধারণা করা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদুল আলম জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে পূর্ববিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এবং কারা এতে জড়িত, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন