আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের সঙ্গে তেল বাণিজ্য অব্যাহত রাখায় চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপ বাড়তে থাকায় পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে চীন। বেইজিং জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞা চীনা প্রতিষ্ঠান ও দেশের বৈধ বাণিজ্যিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করলে তা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাম্প্রতিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি তেলসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা চীনের অভ্যন্তরে বাস্তবায়ন বা কার্যকর করতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বলে ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে।
গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর ঘোষণা দেয় এবং ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশ ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেয়। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে এবং এ ক্ষেত্রে চীনের সহযোগিতাও চান তিনি।
এর জবাবে চীন যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতির তীব্র সমালোচনা করে। বেইজিংয়ের অবস্থান হলো, ইরানের সঙ্গে চীনের বৈধ বাণিজ্য ও জ্বালানি সহযোগিতায় কোনো দেশের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। চীন সতর্ক করে বলেছে, তাদের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হলে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতাদের অন্যতম চীন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের তেল রপ্তানির বড় অংশই চীনা বাজারে যায়। ফলে ইরানি তেল বাণিজ্য বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চাপ সরাসরি চীনের জ্বালানি ও বাণিজ্যিক স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চাপের মধ্যে ইরানের তেল রপ্তানিও বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন চাপ ও অবরোধের কারণে ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং ইরানের প্রধান ক্রেতা চীনের কাছেও তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই পাল্টা অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ওয়াশিংটন যদি ইরানি তেল কেনা বা পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত বড় চীনা ব্যাংক ও কোম্পানিগুলোর ওপর আরও কঠোর ব্যবস্থা নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে নতুন করে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইরানি তেলকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং চীনের পাল্টা প্রতিরোধের ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, যুক্তরাষ্ট্র চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয় কি না এবং তার জবাবে বেইজিং কতটা শক্ত অবস্থান নেয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন