আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা সিকিউরিটি সার্ভিস অব ইউক্রেন (এসবিইউ)-এর কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরে রাশিয়ার একটি ড্রোন হামলা হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিনের বেলায় চালানো এ হামলায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে কিয়েভ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। হামলার পর শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায় এবং ঘটনাস্থলে দ্রুত জরুরি উদ্ধারকারী দল ও অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার ড্রোনটি কিয়েভের ভলোদিমিরস্কা স্ট্রিটে অবস্থিত এসবিইউর কেন্দ্রীয় ভবনে আঘাত হানে। ভবনটি ঐতিহাসিক সেন্ট সোফিয়া ক্যাথেড্রালের বিপরীতে অবস্থিত। জেলেনস্কির দাবি, ড্রোনটি সরাসরি এসবিইউর ভারপ্রাপ্ত প্রধান ওলেক্সান্ডার পোকলাদের কার্যালয়কে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
হামলার সময় পোকলাদ কার্যালয়ে ছিলেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে জেলেনস্কি হামলার পর এসবিইউর ভারপ্রাপ্ত প্রধানের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ও কার্যকর জবাব প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি এমন পাল্টা পদক্ষেপের কথাও বলেছেন, যা সম্ভব হলে এই হামলার প্রতিফলন ঘটাবে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা হামলাটিকে যুদ্ধের একটি বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা স্থাপনায় এই হামলা কূটনৈতিক সমাধানের পরিবর্তে সংঘাত আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধের সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চললেও কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে সরাসরি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। সে কারণে এসবিইউর সদর দপ্তরে হামলাকে চলমান যুদ্ধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপ্রোফাইল হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এসবিইউ ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা। রাশিয়ার সামরিক অবকাঠামো, জ্বালানি স্থাপনা এবং যুদ্ধযন্ত্রের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও দূরপাল্লার অভিযানে সংস্থাটির ভূমিকা রয়েছে। ফলে এসবিইউর কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরে হামলা ইউক্রেনের নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর রাশিয়ার সরাসরি চাপ বাড়ানোর একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।
হামলাটি এমন এক সময় হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে। মার্কিন প্রতিনিধিদের মস্কো ও কিয়েভ সফরের পরিকল্পনার মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন