নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রের কোনো চাপের মুখে নয়, বরং দেশের ক্রমবর্ধমান বিমান চলাচল খাতের চাহিদা বিবেচনায় বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিমান বহরের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। নতুন রুট চালু, যাত্রীসেবা সম্প্রসারণ এবং দেশকে এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে আরও উড়োজাহাজ প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং বিমান কেনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক চাপ রয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, এই সিদ্ধান্ত দেশের নিজস্ব প্রয়োজন থেকেই নেওয়া হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের বর্তমান বিমান বহর প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। বহরের সক্ষমতা না বাড়ালে নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট চালু করা কঠিন হবে এবং বিদ্যমান বাজারেও ব্যবসায়িক সুযোগ হারানোর ঝুঁকি থাকবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে হলে যাত্রী পরিবহন ও রুট নেটওয়ার্ক বাড়াতে হবে। আর সে লক্ষ্য পূরণে দীর্ঘমেয়াদে নতুন উড়োজাহাজ কেনার বিকল্প নেই।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে বাংলাদেশের ৭০ থেকে ৮০টি বা তারও বেশি উড়োজাহাজের প্রয়োজন হতে পারে।
তিনি এ ক্ষেত্রে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের সম্প্রসারণের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, সংস্থাটির বহরে ১৫০টির বেশি উড়োজাহাজ রয়েছে। বাংলাদেশের প্রয়োজন সেই সংখ্যার সমান না হলেও ভবিষ্যতের চাহিদা মেটাতে বহর বড় করতেই হবে।
হুমায়ুন কবির বলেন, দেশের চাহিদা অনুযায়ী ভবিষ্যতে শুধু বোয়িং নয়, প্রয়োজন হলে এয়ারবাসও কেনা হতে পারে। তবে বোয়িং কেনার বিষয়ে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তিনি জানান।
তার মতে, কোন ধরনের উড়োজাহাজ এবং কত সংখ্যক কেনা হবে, তা নির্ধারণে দেশের চাহিদা ও আর্থিক সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এত বড় পরিসরে উড়োজাহাজ কেনার মতো বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সক্ষমতা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রয়োজন এবং ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় রেখেই কেনাকাটার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, বিমান বহর ও রুট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ না করলে নতুন বাজারে প্রবেশ এবং যাত্রীসেবা বাড়ানো সম্ভব হবে না। এতে দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব ও ব্যবসায়িক সুযোগ হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে।
বোয়িং কেনার বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গেও কথা বলেন হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাংলাদেশের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে বেইজিংয়ের সঙ্গেও ভারসাম্যপূর্ণ ও ভালো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় আছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অতিরিক্ত বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার জন্য কয়েক বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে উল্লেখ করেছিলেন। এ প্রেক্ষাপটেই বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অবশ্য স্পষ্ট করেছেন, সরকারের সিদ্ধান্তটি কোনো বিদেশি চাপের কারণে নয়; বরং দেশের এভিয়েশন খাতের দীর্ঘমেয়াদি চাহিদার সঙ্গে সম্পর্কিত।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতের সক্ষমতা বাড়িয়ে দেশকে এশিয়া ও আশপাশের অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমান যোগাযোগকেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বহর সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন রুট চালু, যাত্রীসেবা বৃদ্ধি এবং বিমান চলাচল খাতের ব্যবসায়িক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন বোয়িং ও অন্যান্য উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন