আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১১ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপাক্ষিক সফরে ভারত যাওয়ার পাশাপাশি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য দুটি পৃথক আমন্ত্রণ রয়েছে। একটি হলো দ্বিপাক্ষিক সফরের আমন্ত্রণ, অন্যটি ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ। তিনি জানান, এ বিষয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি হলে ভারত তা জানাবে।
বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানও এর আগে স্পষ্ট করেছেন যে, ভারত থেকে বাংলাদেশ দুটি পৃথক আমন্ত্রণ পেয়েছে। একটি আমন্ত্রণ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য দিয়েছেন। অন্যটি দেওয়া হয়েছে BIMSTEC-এর চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারীকে, যাতে তিনি ব্রিকসের আউটরিচ সেশনে অংশ নিতে পারেন।
অর্থাৎ, ব্রিকসের এই আমন্ত্রণকে বাংলাদেশের পূর্ণ সদস্যপদ বা ব্রিকসের সদস্য হিসেবে আমন্ত্রণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি ব্রিকসের আউটরিচ পর্বে আঞ্চলিক জোটের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সুযোগ।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠনের নেতাদের আউটরিচ সেশনে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ ধরনের আমন্ত্রণ ব্রিকসের প্রচলিত প্রক্রিয়ার অংশ এবং অন্যান্য আঞ্চলিক জোটের প্রধানদেরও একইভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ বর্তমানে BIMSTEC-এর চেয়ারম্যান। বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক এই আঞ্চলিক জোটে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, ভুটান, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড রয়েছে। বাংলাদেশ দুই বছরের জন্য সংগঠনটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছে।
তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
ব্রিকসের আউটরিচ সেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, সফরের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি একই সঙ্গে দুই আমন্ত্রণকে আলাদা করে দেখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
এর আগে ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবারের ব্রিফিংয়েও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন।
এই আমন্ত্রণের সময় দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) ঢাকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে। ভারতীয় হাইকমিশনার বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখীভাবে কাজ করার ভারতের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।
এখন মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্বিপাক্ষিক সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করবেন কি না এবং সেপ্টেম্বরের ব্রিকস আউটরিচ সেশনে অংশ নেবেন কি না। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হলে তারা তা জানাবে।
দুটি আমন্ত্রণের প্রকৃতি আলাদা হলেও একই সময়ে এ ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে BIMSTEC-এর চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস আউটরিচ সেশনে সম্ভাব্য অংশগ্রহণ আঞ্চলিক সহযোগিতা ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

0 মন্তব্যসমূহ