আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকালে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। এখনো বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
কয়েক দশকের অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প
কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৪। স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটের দিকে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল চোকো বিভাগের সান হোসে দেল পালমার এলাকার কাছে। কম্পন দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়।
কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এটি চলতি শতকে দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। পশ্চিমাঞ্চলের কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলসহ বেশ কয়েকটি শহর ও জনপদে এর ব্যাপক প্রভাব পড়ে।
ধসে পড়েছে ভবন, আটকে বহু মানুষ
ভূমিকম্পে কালি, পেরেইরা, মানিজালেস ও কুইবদোসহ পশ্চিম কলম্বিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ভবন ক্ষতিগ্রস্ত ও ধসে পড়েছে। পেরেইরায় বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়ে এবং কিছু স্থাপনায় মানুষ আটকা পড়েন। কালি শহরেও বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রাথমিক হিসাবে অন্তত ৫ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর কার্যক্রম ব্যাহত হয়। বিদ্যুৎ, পানি ও যোগাযোগব্যবস্থায়ও বিঘ্ন দেখা দেয়। এতে দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
মানিজালেস শহরের ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালসহ কয়েকটি ধর্মীয় ও পুরোনো স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পেরেইরায় অন্তত ৬৫টি ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে বলে স্থানীয় তথ্যের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধার অভিযান
ভূমিকম্পের পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু করে দেশটির জরুরি সেবা সংস্থা, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারে ভারী যন্ত্রপাতির পাশাপাশি উদ্ধারকারীরা হাতে করেও কাজ করছেন।
উদ্ধারকাজে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা। দুর্গত কিছু এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বা সীমিত হয়ে পড়ায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব সংগ্রহ করতেও সময় লাগছে।
৩ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ
ভূমিকম্পের পর ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে নিখোঁজের এই সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে এবং উদ্ধার অভিযান এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃত পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছেন কি না, তা জানতে উদ্ধারকারীরা বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের হিসাব ও কেন্দ্রীয় সরকারের হিসাবের মধ্যে সময়ভেদে পার্থক্য দেখা গেছে। উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও নিয়মিত হালনাগাদ হচ্ছে। তাই ২২৪ জনের মৃত্যুর সংখ্যাটিকেও বর্তমান সর্বশেষ হিসাব হিসেবে দেখা হচ্ছে, চূড়ান্ত সংখ্যা হিসেবে নয়।
জরুরি সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
ভূমিকম্পের পর কলম্বিয়া সরকার জরুরি উদ্ধার, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য আশ্রয়, চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা দেওয়ার কাজ চলছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকেও সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রায় ১৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার এবং ইন্টার-আমেরিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক থেকে ৫০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তার কথা জানানো হয়েছে।
আরও প্রাণহানির আশঙ্কা
উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান থাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে নতুন করে ধসের ঝুঁকি থাকায় উদ্ধারকারীদের সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, দুর্গত এলাকাগুলোর পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি বুঝতে আরও সময় লাগবে। উদ্ধার অভিযান যত এগোবে, মৃত, আহত ও নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে।
সর্বশেষ পরিস্থিতি: ৭ দশমিক ৪ মাত্রার এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ২২৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ এবং হাজার হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ