চট্টগ্রামের হামজারবাগে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির পর প্রবাসী ব্যবসায়ীর ১১ তলা ভবনের গেটে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে।

 

চাদার দাবি তে গুলি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | ১১ আগস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির পর এক প্রবাসী ব্যবসায়ীর ১১ তলা ভবনের প্রধান ফটক লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১০ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে রুনা টাওয়ার নামে ওই ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনার আগে ভবনটির মালিক মোহাম্মদ ইউসুফের ছেলে মোহাম্মদ শওকতের হোয়াটসঅ্যাপে একটি বিদেশি নম্বর থেকে ভয়েস মেসেজ পাঠানো হয়। সেখানে এক ঘণ্টার মধ্যে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দেওয়ার দাবি জানানো হয়। চাঁদা না দিলে পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ভয়েস মেসেজে পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছিল। চাঁদার টাকা না দেওয়ার পর শওকত নম্বরটি ব্লক করে দেন।

এর কয়েক ঘণ্টা পর রাতের দিকে দুই যুবক রুনা টাওয়ারের সামনে আসে। সে সময় এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না বলে জানিয়েছেন ভবনের নিরাপত্তাকর্মী মো. আলমগীর। তাঁর ভাষ্য, দুই যুবক এসে তাঁকে গেটের ভেতরে থাকতে এবং গেট বন্ধ করতে বলে। এরপর ভবনের প্রধান ফটক লক্ষ্য করে পরপর দুই রাউন্ড গুলি ছুড়ে তারা হেঁটে চলে যায়।

গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। তবে ঘটনায় কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, হামজারবাগ এলাকায় চাঁদা না পেয়ে একটি ভবনের গেট লক্ষ্য করে গুলি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়নি বলেও জানান তিনি।

পুলিশের পক্ষ থেকে চাঁদা দাবিকারীদের পরিচয় বা তাদের কোনো সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য জানানো হয়নি। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা যাচ্ছে না।

রুনা টাওয়ারের মালিক মোহাম্মদ ইউসুফ। তাঁর দুই ছেলে বিদেশে ব্যবসা করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি এলাকায়।

পরিবারের অভিযোগ, বিদেশে থাকা সদস্যদের কাছে এর আগেও বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে বর্তমান ঘটনার সঙ্গে কোনো পূর্ববিরোধ বা ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব সরাসরি জড়িত কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।

ঘটনার আগে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ এবং এরপর ভবনের গেটে গুলি ছোড়ার ঘটনা—দুটির মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিই তদন্তের অন্যতম বিষয়। পাশাপাশি গুলি ছোড়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের তথ্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করছে।

চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ সামনে এসেছে। এর মধ্যে গত জুলাইয়ে দক্ষিণ পাহাড়তলী এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ এবং জুনে বাকলিয়া এলাকায় একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে চাঁদার দাবিতে হামলার অভিযোগও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

হামজারবাগের সর্বশেষ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কারা চাঁদা দাবি করেছে বা কারা গুলি ছুড়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Breaking Bangla News | Latest Bangladesh & World Updates