আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় আমুর অঞ্চলে নির্মাণাধীন আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে (এজিসিসি) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন বাংলাদেশি নিখোঁজ এবং সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মস্কোয় বাংলাদেশ দূতাবাস।
বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মিজানুর রহমান বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বাংলাদেশি নাগরিক হতাহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। নিহত বাংলাদেশির নাম জাকির হোসেন। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায় বলে জানিয়েছে দূতাবাস।
দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, আহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য আমুর অঞ্চল থেকে মস্কোর বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আহতদের মধ্যে ছয়জন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
দুর্ঘটনাটি ঘটে ২৫ আগস্ট রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের সভোবোদনি শহরের কাছে অবস্থিত আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সের নির্মাণ এলাকায়। কমপ্লেক্সটি এখনো পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায়নি। উৎপাদন শুরুর আগে বিভিন্ন পরীক্ষা ও প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছিল সেখানে।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, কমপ্লেক্সের পাইরোলাইসিস ইউনিটের একটি অংশে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও হতাহতদের উদ্ধারে কাজ শুরু করে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে প্রথমে সাতজন নিহত ও নয়জন নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছিল। পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জনে দাঁড়ায়। নিহতদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।
বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় নিহত জাকির হোসেনের মরদেহ দেশে ফেরানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ বাংলাদেশি কর্মীর সন্ধানেও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
আগুনে কয়েকটি মরদেহ গুরুতরভাবে পুড়ে যাওয়ায় শনাক্তকরণে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ কারণে নিখোঁজ বাংলাদেশি কর্মীর বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য পেতে মরদেহ শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার অপেক্ষা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। রুশ কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। শিল্প নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন বা কারিগরি ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্স রাশিয়ার অন্যতম বড় পেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্প। এটি রুশ প্রতিষ্ঠান সিবুর ও চীনের সিনোপেকের যৌথ উদ্যোগে নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি চালু হলে বিপুল পরিমাণ পলিথিন ও পলিপ্রোপিলিন উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হওয়ার কথা রয়েছে।
দুর্ঘটনার পর প্রকল্প এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষে হতাহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসা, নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান এবং নিহত জাকির হোসেনের মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন