ঢাকা, ২৭ আগস্ট ২০২৬: পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের পরিবর্তে খণ্ডিত বা আংশিক সংস্কারের উদ্যোগ, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং সংসদের কার্যপ্রণালি নিয়ে আপত্তি তুলে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধীদল। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনেই এই ঘটনা ঘটে।
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ বিরোধী জোটের সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ওয়াকআউটের সময় রাত ৮টা ৫ থেকে ৮টা ৭ মিনিটের মধ্যে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওয়াকআউটের আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের গণভোটে সংস্কারের বিষয়ে যে রায় এসেছে, তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করে সরকার পৃথক পৃথক উদ্যোগ ও আইন প্রণয়নের মাধ্যমে খণ্ডিত সংস্কারের দিকে এগোচ্ছে। তাঁর বক্তব্যে সংবিধান সংস্কার, জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
বিরোধীদলীয় নেতা সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, বিরোধী দল শুরু থেকেই ওই কমিটি গঠনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে এবং এতে অংশ নেয়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জনগণের দেওয়া সংস্কারের ম্যান্ডেটকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিবর্তে সংসদের কার্যক্রমে অন্য বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট, লোডশেডিং, জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বিরোধীদলীয় নেতা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এসব বিষয়ে সংসদে আলোচনার জন্য বিরোধী দলের পক্ষ থেকে নোটিশ দেওয়া হলেও তা আলোচনায় না আসার অভিযোগও করেন তিনি।
ওয়াকআউটের আরেকটি তাৎক্ষণিক কারণ ছিল অধিবেশনের কার্যসূচিতে সরকারি বিল উত্থাপন নিয়ে বিরোধিতা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং হস্তান্তর সম্পত্তি-সংক্রান্ত সংশোধনীসহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপনের ঠিক আগে বিরোধী সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তাঁরা ওই পর্যায়ের আলোচনায় আর অংশ নেবেন না এবং জনগণের পক্ষে কথা বলার জন্য দেওয়া নোটিশগুলো ভবিষ্যতে আলোচনার সুযোগ পাবে বলে আশা করেন। উপযুক্ত সময়ে সংসদে ফিরে এসে জনগণের স্বার্থে কথা বলার কথাও জানান তিনি।
ওয়াকআউটের সময় ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার ওয়াকআউট করার স্বাধীনতা রয়েছে। তবে সংসদের ভেতরে সব বিষয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বিরোধীদলীয় নেতা ও সদস্যদের অধিবেশনে থেকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পক্ষ-বিপক্ষের বিতর্কের মধ্য দিয়েই সংসদীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া উচিত।
এরপর বিরোধী দলের সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেলে ডেপুটি স্পিকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান। ফলে বিরোধী সদস্যদের অনুপস্থিতিতেই পরবর্তী সংসদীয় কার্যক্রম এগিয়ে যায়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন