সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য ভিপি মো. আয়নুল হকের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় তাঁর ব্যবহৃত গাড়ির পেছনের কাচসহ বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনাটি ঘটে ধানগড়া এলাকায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) নির্মাণের স্থান নির্ধারণ নিয়ে আয়োজিত একটি মতবিনিময় সভা শেষে। সভায় বক্তব্য দেওয়ার পর আয়নুল হক গাড়িতে করে এলাকা ছাড়ার সময় তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে গাড়ির কাচ ভেঙে যায়।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের থেকে জানা যায়, রায়গঞ্জে সরকারি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণের স্থান নিয়ে ধানগড়া ও চান্দাইকোনা এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। শনিবার বিকেলে ধানগড়া এলাকায় এ বিষয় নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য ও আলোচনা চলাকালে উত্তেজনা তৈরি হয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পর সংসদ সদস্য সভাস্থল ত্যাগ করে গাড়িতে ওঠেন। পরে গাড়িটি এলাকা ছাড়ার সময় হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সংসদ সদস্য আহত হয়েছেন কি না—এ বিষয়ে সঠিক তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হওয়ার দাবী করা হয়েছে।
হামলার পর সংসদ সদস্য আয়নুল হক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ভিডিও বার্তায় হামলার জন্য জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মীদের দায়ী করেন। তিনি নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
ঘটনার প্রতিবাদে বিএনপির নেতা-কর্মীরা রায়গঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। চান্দাইকোনা ও ধানগড়া এলাকায়ও বিক্ষোভ ও সমাবেশের খবর পাওয়া গেছে। সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি হামলার নিন্দা জানিয়ে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
তবে বিএনপির অভিযোগ অস্বীকার করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা দাবি করেছেন, হামলার সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বরং বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটতে পারে এবং এর দায় জামায়াতের ওপর চাপানো হচ্ছে—এমন পাল্টা দাবি করেছেন তাঁরা।
এনসিপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে হামলায় কারা সরাসরি জড়িত ছিল, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, সংসদ সদস্য আয়নুল হকের গাড়িতে হামলার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। ঘটনার পর ধানগড়া ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি জানান।
এই প্রতিবেদনে লেখা পর্যন্ত, এই ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি এবং কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন