ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ: হরমুজ নিয়ে উত্তেজনা, তেলের দাম বাড়ার শঙ্কা।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা, শান্তি আলোচনার অগ্রগতি ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার বিষয়ে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা।

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে ওয়াশিংটনকে ‘পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে নেওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছে ইরান। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘অত্যন্ত মন্দ’ দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম আরও কিছুদিন বেশি থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কখন খোলা বা বন্ধ থাকবে, সে সিদ্ধান্ত ইরানই নেবে। যুক্তরাষ্ট্র পরাজয়ের বাস্তবতা স্বীকার না করা পর্যন্ত প্রণালিতে তাদের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

ঘারিবাবাদি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, বিমানবাহী রণতরী কিংবা রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে দখল করা সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, জলপথটি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালুর বিষয়ে তেহরান এখনো কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও পূর্ণাঙ্গ শান্তি আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। এর আগে জুনে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কার্যকরভাবে ভেঙে পড়ে। বর্তমানে বিভিন্ন দেশ দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে ভূমিকা রাখলেও সরাসরি ও পূর্ণাঙ্গ আলোচনা পুনরায় শুরু হয়নি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ পুনরায় শুরু করার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে যুদ্ধ অবসানের কূটনৈতিক পথ এখনো অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন হতো। বর্তমানে সেখানে তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে অপরিশোধিত তেলের দামের ওপরও। শান্তি আলোচনায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় বাজারে সরবরাহ-ঝুঁকি আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে ১৪ আগস্ট নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত চলতে থাকায় মার্কিন নাগরিকদের কিছুটা বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হতে পারে। তাঁর ভাষ্য, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার জন্য এই অতিরিক্ত ব্যয় মেনে নেওয়া প্রয়োজন।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের গড় দাম প্রতি গ্যালন প্রায় ৪ দশমিক ০৮ ডলারে পৌঁছায়, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ২৯ শতাংশ বেশি।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহন ব্যয়ে চাপ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো স্পষ্ট সংকেত দিচ্ছে না। ফলে যুদ্ধ অবসানের কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত।

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন
প্রগতি বার্তা
ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...
00:00:00

𝑷𝒓𝒐𝒈𝒂𝒕𝒊𝑩𝒂𝒓𝒕𝒂

প্রগতি বার্তা
সত্যের সন্ধানে নির্ভীক