আড়িয়াল খাঁ নদে তিতাসের গ্যাস লিকেজ, জনমনে আতঙ্ক।

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে আড়িয়াল খাঁ নদের তলদেশে তিতাসের উচ্চচাপের গ্যাস পাইপলাইনে লিকেজে পানিতে বুদবুদ ও গ্যাসের গন্ধ ছড়ায়। আতঙ্কে এলাকাবাসী।

 কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের কাজীরচর এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদের তলদেশ দিয়ে যাওয়া তিতাস গ্যাসের উচ্চচাপের প্রধান সঞ্চালন পাইপলাইনে লিকেজের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পাইপলাইনের ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বের হয়ে নদের পানিতে বুদবুদ সৃষ্টি হচ্ছিল এবং আশপাশে গ্যাসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছিল।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রথম দিকে নদের পানিতে অল্প পরিমাণে বুদবুদ দেখা গেলেও সময়ের সঙ্গে গ্যাস নির্গমনের মাত্রা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে পানির ওপর ফোয়ারার মতো গ্যাস বের হতে দেখা যায়। এতে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর তীরবর্তী একটি চুনাপাথর কারখানায় অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করার সময় তিতাসের উচ্চচাপের পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এ লিকেজের সৃষ্টি হয়। তবে ঘটনার শুরুতে এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত ছিল না।

পরবর্তী সময়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ চুনাপাথর কারখানার তিনটি চুল্লি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, তিতাসের প্রধান সঞ্চালন লাইন থেকে অবৈধভাবে গ্যাস নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে পাইপলাইনের লিকেজের সম্পর্ক রয়েছে বলে তদন্তে বিষয়টি সামনে আসে।

তবে কারখানার মালিক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে কারা অবৈধ সংযোগের চেষ্টা করেছিলেন এবং ঠিক কীভাবে পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে বিষয়ে আইনগত তদন্তের ফলই চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবে।

তিতাস গ্যাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নদীর তলদেশে থাকা পাইপলাইনের ছিদ্র মেরামত করা সহজ ছিল না। পাইপলাইনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে কাজ করতে গিয়ে গ্যাস সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়েছে। মেরামতের কাজ চলাকালে কিশোরগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহেও প্রভাব পড়ে।

তিতাস গ্যাসের ময়মনসিংহ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কাজটি চ্যালেঞ্জিং হলেও শেষ পর্যন্ত পাইপলাইনের ছিদ্র বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। মেরামতের পর ধাপে ধাপে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করে। পাইপলাইনের সুরক্ষা আরও জোরদার করতে উন্নতমানের সুরক্ষা টেপ ব্যবহারের কথাও জানানো হয়েছে।

তিতাস গ্যাসের ময়মনসিংহ বিভাগের সিস্টেম অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখার আঞ্চলিক অপারেশন (ভালুকা) ব্যবস্থাপক মো. শামীম হোসেনের তথ্য অনুযায়ী, লিকেজের কারণে শেষ কয়েক দিনে প্রাথমিক হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার গ্যাস অপচয় হয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চচাপের গ্যাস বের হয়ে যাওয়ায় একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ জাতীয় সম্পদের অপচয় হয়েছে, অন্যদিকে নদীপাড়ের মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়।

লিকেজের খবর পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কারখানার বৈধ কাগজপত্র যাচাই এবং অবৈধ গ্যাস সংযোগের অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের কথা জানানো হয়েছিল।

পরে অবৈধ চুনাপাথর কারখানার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে কারখানার তিনটি চুল্লি ভেঙে দেওয়া হয় এবং বিপুল পরিমাণ চুনাপাথর জব্দ করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা যায়নি; তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতির কথাও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাইপলাইনের ছিদ্র মেরামত করা হয়েছে এবং গ্যাস সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। ফলে আগের মতো ব্যাপকভাবে গ্যাস বের হওয়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

ঘটনাটি শুধু গ্যাস অপচয়ের নয়, উচ্চচাপের সঞ্চালন পাইপলাইনের নিরাপত্তা ও অবৈধ সংযোগ ঠেকানোর বিষয়টিও সামনে এনেছে। স্থানীয়দের দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সঞ্চালন লাইনের নিরাপত্তা জোরদার এবং অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন
প্রগতি বার্তা
ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...
00:00:00

𝑷𝒓𝒐𝒈𝒂𝒕𝒊𝑩𝒂𝒓𝒕𝒂

প্রগতি বার্তা
সত্যের সন্ধানে নির্ভীক