প্রগতি বার্তা
ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...
00:00:00

'স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এর দায় নিতে হবে’, রংপুরের ঘটনায় উদ্বেগ জামায়াত আমিরের।

রংপুরে একই পরিবারের চারজন হত্যাকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

 নিজস্ব প্রতিবেদক | 

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায় নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

রোববার (২৩ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান রংপুরের হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি ঢাকা ও ময়মনসিংহে চিকিৎসকদের ওপর হামলা এবং চাঁদা দাবির ঘটনাও উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, এসব ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

রংপুর মহানগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় শনিবার রাতে একটি বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতরা হলেন—গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী (২৪) এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম (১২)। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁদের মরদেহ বাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার এবং হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ কারণ ও পদ্ধতি নিশ্চিত করতে তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটি কিছু সময় ধরে তালাবদ্ধ ছিল। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা না যাওয়ায় স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ি থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার পর বাড়িটি ঘিরে তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রংপুরের এই হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য নিয়ে এখন পর্যন্ত একাধিক তথ্য সামনে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্রের বরাত দিয়ে কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডাকাতির উদ্দেশ্যে বাড়িতে ঢুকে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। স্থানীয় কয়েকজন যুবকের দিকেও সন্দেহের কথা উঠে এসেছে।

অন্যদিকে নিহতদের স্বজনদের বক্তব্যে বাড়ি নির্মাণের সময় চাঁদা দাবির বিষয়টিও এসেছে। ফলে হত্যাকাণ্ডের পেছনে ডাকাতি, চাঁদাবাজি কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তিগত বা স্থানীয় বিরোধ ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এ পর্যায়ে কোনো একটি কারণকে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। তদন্ত শেষ হলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাবে।

হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে স্থানীয় কয়েকজন যুবককে আটক করেছে বলে বিভিন্ন সুত্র জানিয়েছে।

একাধিক সুত্রে, সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুই যুবককে আটকের কথা বলা হয়েছে। আবার অন্য একটি প্রতিবেদনে তিনজন যুবককে আটকের তথ্য এসেছে। তবে রোববার দুপুর পর্যন্ত আটকের সংখ্যা ও তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।

তাই আটক ব্যক্তিরাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত—এমন সিদ্ধান্ত এখনই দেওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তের মাধ্যমে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে।

রংপুরের চার হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে একের পর এক অপরাধ সংঘটিত হলেও ভুক্তভোগীরা সঠিক বিচার পাচ্ছেন না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্লিপ্ত ভূমিকা জনগণকে শঙ্কিত করে তুলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রংপুরের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ফেসবুক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান রংপুরের চার হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকায় একজন চিকিৎসকের কাছে ডলারে চাঁদা দাবি ও পরে হামলার ঘটনা এবং ময়মনসিংহে একজন পশুচিকিৎসকের কাছে চাঁদা দাবি ও হামলার অভিযোগের কথাও উল্লেখ করেন।

এসব ঘটনাকে তিনি দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর মতে, ধারাবাহিক অপরাধের ঘটনায় জনগণের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে।

জামায়াত আমির রংপুরের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ, হত্যার সঙ্গে কারা জড়িত এবং হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে কী ঘটেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন
📢 আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন
প্রগতি বার্তা
আপনার ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের প্রচার করুন
হাজারো পাঠকের কাছে পৌঁছে দিন আপনার বিজ্ঞাপন
progatibarta.com

💬 WhatsApp এ যোগাযোগ করুন
সরাসরি যোগাযোগ: ০১৩০৯০৮১৪৯০

𝑷𝒓𝒐𝒈𝒂𝒕𝒊𝑩𝒂𝒓𝒕𝒂

প্রগতি বার্তা
সত্যের সন্ধানে নির্ভীক