প্রগতি বার্তা
ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...
◷ 00:00:00

ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের হামলায় ৪ দিন বন্ধ ব্রিটিশ বিদ্যুৎকেন্দ্র।

ইরান-সংশ্লিষ্ট সাইবার হামলায় বন্ধ ব্রিটিশ বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থাপনা

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের সাইবার হামলায় যুক্তরাজ্যের একটি ছোট আকারের বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র চার দিন বন্ধ ছিল বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস। ঘটনাটি গত জুলাইয়ে ঘটে এবং ব্রিটিশ জ্বালানি খাতে এ ধরনের সাইবার হামলার অন্যতম গুরুতর ঘটনা হিসেবে এটিকে দেখা হচ্ছে। তবে ব্রিটিশ সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার কারণে জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ বা বৃহত্তর জ্বালানি ব্যবস্থায় কোনো প্রভাব পড়েনি।

 হামলার পর আক্রান্ত স্থাপনাটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। কর্মীরা প্রায় চার দিন ধরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে কেন্দ্রটি পুনরায় চালু করার চেষ্টা করেন।

তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রটির নাম বা সঠিক অবস্থান প্রকাশ করেনি। সংবাদমাধ্যমে এটিকে ‘পাওয়ার প্ল্যান্ট’ বলা হলেও ব্রিটিশ সরকারের একজন মুখপাত্র স্পষ্ট করেছেন, এটি ছিল ছোট আকারের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থাপনা এবং জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর তালিকায় থাকা বড় কোনো কেন্দ্র নয়।

সরকারি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, স্থাপনাটির সক্ষমতা জাতীয় গ্রিডের তুলনায় অত্যন্ত ছোট। ফলে এটি বন্ধ থাকলেও যুক্তরাজ্যের বিদ্যুৎ উৎপাদন বা সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি।

ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশটির জ্বালানি ব্যবস্থা যথেষ্ট স্থিতিশীল এবং নিরাপদ। আক্রান্ত স্থাপনাটি বন্ধ থাকার সময় জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি।

সরকারি মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটি একটি ছোট আকারের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী স্থাপনাকে প্রভাবিত করেছিল এবং বৃহত্তর জ্বালানি ব্যবস্থার জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি।

অর্থাৎ, হামলাটি একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ করতে সক্ষম হলেও যুক্তরাজ্যের জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড অচল করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের National Cyber Security Centre (NCSC)-এর নজরে আসে। NCSC হলো ব্রিটিশ সরকারের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা এবং GCHQ-এর অংশ।

হামলার পর বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের বিষয়টি সম্পর্কে সতর্ক করা হয় এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের মার্চে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছিল NCSC। সংস্থাটি বিশেষ করে ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকটিভিস্টদের কর্মকাণ্ড থেকে সম্ভাব্য ‘spillover’ বা পরোক্ষ প্রভাবের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল।

ব্রিটিশ সরকারের ২০২৬ সালের Energy Sector Cyber Security Strategy-তেও ইরানভিত্তিক সাইবার হুমকি নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। নথিটিতে বলা হয়েছে, ইরানভিত্তিক হুমকি-সৃষ্টিকারীরা সাইবার জগতে সক্রিয় এবং শিল্প নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা Industrial Control Systems (ICS)-কে লক্ষ্য করার ঘটনাও দেখা গেছে।

শিল্প নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হলো এমন প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্র, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, কারখানা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার যন্ত্রপাতি নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ করা হয়। এসব ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ করতে পারলে কোনো প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষও ২০২৬ সালে ইরান-সংশ্লিষ্ট সাইবার গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছে। এসব হামলায় শিল্প নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতা কাজে লাগানোর বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে।

যুক্তরাজ্যে সাইবার হামলার সামগ্রিক ঝুঁকিও দ্রুত বাড়ছে। NCSC-এর প্রধান নির্বাহী রিচার্ড হর্ন জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত এক বছরে সংস্থাটি যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো ও এর সহায়ক ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২০০টির বেশি সাইবার ঘটনা মোকাবিলা করেছে। এসব ঘটনার প্রায় ৭৫ শতাংশের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার যোগসূত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

এর ফলে বিদ্যুৎ, পানি, পরিবহন, স্বাস্থ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলোতে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা ব্রিটিশ সরকারের অন্যতম বড় অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।

ব্রিটিশ বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলার সময়ের কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অঙ্গরাজ্যের পানি অবকাঠামোতেও ইরান-সংশ্লিষ্ট সাইবার তৎপরতার খবর পাওয়া যায়। দ্য টাইমস জানিয়েছে, ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যের পানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে সাইবার অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছিল।

এ কারণে ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের কাছে ঘটনাটি আরও গুরুত্ব পায়। তবে যুক্তরাজ্যের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পানি অবকাঠামোর হামলাগুলো একই সংগঠনের সমন্বিত অভিযান ছিল—এমন নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

এই হামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—সাইবার হামলার মাধ্যমে একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থাপনার কার্যক্রম বাস্তবেই কয়েক দিনের জন্য বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। যদিও আক্রান্ত স্থাপনাটি ছোট এবং জাতীয় গ্রিডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, তবুও ঘটনাটি দেখিয়েছে যে শিল্প নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর সাইবার আক্রমণ বাস্তব জগতের অবকাঠামোতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন
📢 আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন
প্রগতি বার্তা
আপনার ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের প্রচার করুন
হাজারো পাঠকের কাছে পৌঁছে দিন আপনার বিজ্ঞাপন
progatibarta.com

💬 WhatsApp এ যোগাযোগ করুন
সরাসরি যোগাযোগ: ০১৩০৯০৮১৪৯০

𝑷𝒓𝒐𝒈𝒂𝒕𝒊𝑩𝒂𝒓𝒕𝒂

প্রগতি বার্তা
সত্যের সন্ধানে নির্ভীক