আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ নেপালের তরুণদের ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্পের আওতায় ‘অগ্নিবীর’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে। এ দাবিতে দেশটির পোখারা শহরে বিক্ষোভ ও মিছিল করেছেন সাবেক গোর্খা সেনাসদস্য, তাদের পরিবারের সদস্য এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে আগ্রহী নেপালি তরুণরা।
বুধবার (১২ আগস্ট) পোখারায় এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ‘ইন্ডিয়ান এক্স-সার্ভিসম্যান গোর্খা ব্রিগেড নেপাল’ আন্দোলনটির আয়োজন করে। বিক্ষোভকারীরা নেপালি তরুণদের ভারতীয় সেনাবাহিনীতে অগ্নিবীর হিসেবে নিয়োগের সুযোগ পুনরায় চালুর দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, দীর্ঘদিনের গোর্খা নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় নেপালের অনেক তরুণ কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা ভারতীয় সেনাবাহিনীতে অগ্নিবীর হিসেবে কাজের সুযোগকে বিদেশে, বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোতে কাজের তুলনায় আকর্ষণীয় বিকল্প হিসেবে দেখছেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সাবেক গোর্খা সেনা ও তরুণরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করেন। পরে তারা জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের দিকে মিছিল নিয়ে গিয়ে নেপাল সরকারের কাছে স্মারকলিপি দেন। এতে অগ্নিপথ প্রকল্পের আওতায় নেপালি নাগরিকদের নিয়োগ পুনরায় চালুর দাবি জানানো হয়।
ভারতীয় সেনাবাহিনীতে নেপালি নাগরিকদের গোর্খা হিসেবে নিয়োগের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তবে ২০২০ সালের পর থেকে নতুন করে নেপালি তরুণদের নিয়োগ কার্যত বন্ধ রয়েছে। ২০২২ সালে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্প চালুর পর এই নিয়োগ নিয়ে নেপালের আপত্তি আরও স্পষ্ট হয়। নেপাল সরকার নতুন চার বছরের নিয়োগ কাঠামোকে ১৯৪৭ সালের ভারত-নেপাল-ব্রিটেনের ত্রিপক্ষীয় ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করে।
অগ্নিপথ প্রকল্পের আওতায় নিয়োগ পাওয়া ‘অগ্নিবীরদের’ চার বছরের জন্য সশস্ত্র বাহিনীতে কাজের সুযোগ দেওয়া হয়। চার বছর শেষে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশকে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক চাকরিতে রাখার বিধান রয়েছে। বাকি সদস্যরা নির্ধারিত আর্থিক সুবিধা নিয়ে চাকরি থেকে অব্যাহতি পান। এই কাঠামোই নেপালি গোর্খা নিয়োগ পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় হয়ে আছে।
এদিকে, ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল ধিরাজ শেঠের ১৬ আগস্ট থেকে নেপালে পাঁচ দিনের সফরের কথা রয়েছে। তার সফরের আগে পোখারায় গোর্খা নিয়োগ পুনরায় চালুর দাবিতে বিক্ষোভ হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তবে নেপালি তরুণদের ভারতীয় সেনাবাহিনীতে অগ্নিবীর হিসেবে নিয়োগ আবার কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে নেপাল ও ভারতের মধ্যে আলোচনা এবং নেপাল সরকারের সিদ্ধান্তই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন