প্রযুক্তি ডেস্কঃ রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্যামেরার পর এবার ড্রোন সার্ভিলেন্স চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। প্রাথমিকভাবে একটি ড্রোন পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ ও যানজটপ্রবণ সড়কের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সড়কের ওপর থেকে যান চলাচলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। কোথায় যানজট তৈরি হচ্ছে, কোন সড়কে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়েছে কিংবা কোথায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিক তথ্য পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে একটি ড্রোন দিয়ে কার্যক্রম চালানো হবে। আগে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাজ করা হয়নি বলে বাস্তব প্রয়োগের অভিজ্ঞতা তৈরি করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এরই মধ্যে এআইভিত্তিক ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে সিগন্যাল অমান্য, ভুল পথে চলাচল, লেন ও স্টপলাইন ভঙ্গসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করা হচ্ছে। জুনের শেষ নাগাদ এআই ক্যামেরার মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি মামলা এবং ৩৮ হাজার সমন জারির তথ্য জানিয়েছিল ডিএমপি।
ডিএমপির পক্ষ থেকে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এআইভিত্তিক নজরদারি সম্প্রসারণের কাজও চলছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করার লক্ষ্যে সিগন্যাল ম্যানেজমেন্ট নিয়েও সমীক্ষা ও পরিকল্পনা চলছে।
ড্রোন সার্ভিলেন্স সফল হলে ভবিষ্যতে এর সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তি যুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত করে ভিডিও প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এটি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা; প্রাথমিক পর্যায়ে ড্রোন দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহের ওপরই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ডিএমপির কর্মকর্তাদের মতে, রাজধানীর যানজটের অন্যতম কারণ গণপরিবহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল। অনেক বাস নির্ধারিত যাত্রীছাউনিতে না থেমে সড়কের বিভিন্ন স্থানে যাত্রী ওঠানামা করায় পেছনে যানবাহনের চাপ তৈরি হয়। যাত্রী ধরতে বাসগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে সেমি-অটোমেটিক ও স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। জুলাইয়ে ডিএমপি জানিয়েছিল, আগামী ছয় মাসের মধ্যে রাজধানীর ১২০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
ড্রোন, এআই ক্যামেরা ও আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল—এই প্রযুক্তিগুলো সমন্বিতভাবে ব্যবহার করে রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ নিচ্ছে ডিএমপি। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে প্রযুক্তির পাশাপাশি সড়ক ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নের ওপরও।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন