স্পোর্টস ডেস্কঃ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) এবারের আসর আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গত দুই আসরে প্রায় ৪০ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বকেয়া, ব্যাংক গ্যারান্টি এবং নানা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তাড়াহুড়ো করে টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে চায় না বোর্ড। আগামী বছর নতুন ও সুশৃঙ্খল কাঠামোয় বিপিএল আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার বিপিএলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানান, চলতি বছর বিপিএল আয়োজন করা হবে না। তাঁর মতে, শুধু আয়োজনের জন্য তাড়াহুড়ো করে একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের চেয়ে আগে পুরো ব্যবস্থাপনাকে ঠিক করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তামিম বলেন, বিপিএল আয়োজনের বিষয়ে বিসিবির ইচ্ছার কোনো ঘাটতি নেই। তবে তিনি তাড়াহুড়ো করতে চান না। প্রয়োজন হলে সঠিক কাঠামো তৈরি করতে ছয় মাস থেকে এক বছর সময় নিতেও প্রস্তুত তিনি।
বিপিএল বন্ধ রাখার অন্যতম বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি। তামিম ইকবালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত দুই আসরে বিসিবির প্রায় ৪০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে বোর্ডের লাভ করার কথা থাকলেও উল্টো লোকসান হওয়ায় বর্তমান কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
বিসিবি সভাপতি মনে করেন, কোনো দল শেষ মুহূর্তে সরে গেলে বা নিয়ম মেনে না চললে তার দায়ভার শেষ পর্যন্ত বোর্ডের ওপর এসে পড়ে। তাই আর্থিকভাবে টেকসই কাঠামো ছাড়া বিপিএল আয়োজন চালিয়ে যেতে চান না তিনি।
বিপিএলের পুরোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ শুরু করেছে বিসিবি। যেসব ফ্র্যাঞ্চাইজি আর্থিকভাবে খেলাপি হয়েছে, তাদের বিষয় নিষ্পত্তি, বকেয়া অর্থ এবং ব্যাংক গ্যারান্টি-সংক্রান্ত জটিলতা ধাপে ধাপে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তামিমের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজি-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষ করতে চায় বিসিবি। এতে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ালে বিকল্প দল খুঁজে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিপিএল নিয়ে নানা অনিয়ম, ফ্র্যাঞ্চাইজিদের পেমেন্ট জটিলতা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। এবার এসব সমস্যা সমাধান করেই টুর্নামেন্টে ফিরতে চায় বিসিবি।
তামিমের ভাষ্য অনুযায়ী, চাইলে দ্রুত পাঁচটি দল তৈরি করে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা সম্ভব। কিন্তু তিনি সেটি করতে চান না। তাঁর অগ্রাধিকার হলো প্রতিযোগিতামূলক ও ন্যায্য ক্রিকেট নিশ্চিত করা এবং বিসিবির সম্মান ও মর্যাদা বজায় রাখা।
বিপিএল আয়োজন না করার সিদ্ধান্তে সমালোচনা হতে পারে—এটা মেনে নিয়েছেন তামিম ইকবাল। তবে সমালোচনার ভয়ে তাড়াহুড়ো করে টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে চান না তিনি।
তামিমের পরিকল্পনা হলো, ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্বাচন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ব্যাংক গ্যারান্টি ও নিয়মকানুনের বিষয়গুলো আগে ঠিক করা। এরপর পর্যাপ্ত সময় নিয়ে আগামী বছর নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিপিএল আয়োজন করা।
অর্থাৎ, বিপিএল স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না। বরং বর্তমান কাঠামোর সমস্যাগুলো দূর করে নতুনভাবে টুর্নামেন্টটি মাঠে ফেরানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বিসিবি।
এদিকে বিপিএলের আর্থিক ক্ষতি নিয়ে তামিম ইকবালের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন বিসিবির পরিচালক আসিফ আকবর। তিনি তামিমের ৪০ কোটি টাকা ক্ষতির দাবিকে ‘মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করেছেন। ফলে বিপিএলের আর্থিক হিসাব নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
তবে বিপিএলের ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে বিসিবির অবস্থান আপাতত পরিষ্কার—তাড়াহুড়ো নয়, বরং আর্থিকভাবে টেকসই, নিয়মতান্ত্রিক ও প্রতিযোগিতামূলক আয়োজনের মাধ্যমে আগামী বছর টুর্নামেন্টটি ফেরানোর চেষ্টা করা হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন