নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ২১ আগস্ট ২০২৬
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে পৃথক অভিযান চালিয়ে চিহ্নিত তিন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-২। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—জেনেভা ক্যাম্পের চুয়া সেলিম, চাঁদ উদ্যান এলাকার কিশোর গ্যাং ‘মাহী গ্রুপ’-এর সেকেন্ড ইন কমান্ড জয় এবং তালিকাভুক্ত অপরাধী রতন ওরফে ‘বোমা রতন’।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বসিলায় র্যাব-২ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সংবাদ সম্মেলনের সময় ও স্থান নিয়ে সামান্য পার্থক্য থাকলেও গ্রেপ্তারের মূল তথ্যগুলোতে মিল রয়েছে।
র্যাব জানায়, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জেনেভা ক্যাম্পের একটি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে মো. সেলিম আশরাফী ওরফে চুয়া সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে হত্যা ও মাদকসহ মোট ৩৬টি মামলা রয়েছে এবং একাধিক মামলায় তিনি পরোয়ানাভুক্ত আসামি।
র্যাবের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জেনেভা ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, খুন ও মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে চুয়া সেলিম জড়িত ছিলেন। এর আগে ২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি ধানমন্ডি এলাকা থেকেও তাকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব-২।
একই দিনে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাং ‘মাহী গ্রুপ’-এর সেকেন্ড ইন কমান্ড জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, জয়ের বিরুদ্ধে ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদকসহ ১০টি মামলা রয়েছে। র্যাবের দাবি, জয় ও তার সহযোগীরা ঢাকা উদ্যান, চাঁদ উদ্যান ও নবীনগর এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মারামারিতে জড়িত ছিলেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী, ভাড়াটিয়া ও নির্মাণকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের চাঁদাবাজির শিকার হতেন বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
এর আগে চলতি বছরের ২৪ এপ্রিলও মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে র্যাব জানিয়েছে।
অন্যদিকে, মোহাম্মদপুর থানার বিজলী মহল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তালিকাভুক্ত অপরাধী মো. রতন ওরফে ‘বোমা রতন’কে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে দস্যুতা, ডাকাতি, ছিনতাই ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ২০টি মামলা রয়েছে। র্যাবের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি গজনবী রোড, বসিলা ও জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় একটি অস্ত্রধারী চক্রের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। এর আগে ২০২২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি গজনবী রোড এলাকা থেকেও তাকে আটক করা হয়েছিল।
র্যাব-২ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন