ডেস্ক রিপোর্টঃ নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে অবৈধভাবে পালানোর চেষ্টাকালে ৯ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রোববার (২ আগস্ট) ভোরে নিয়মিত টহল ও নজরদারির সময় তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের ভাসানচর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আটক রোহিঙ্গারা সংঘবদ্ধভাবে ভাসানচর ছেড়ে মূল ভূখণ্ডে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অনুমতি ছাড়া ভাসানচর ত্যাগের চেষ্টা করছিলেন বলে স্বীকার করেছেন।
আটকদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশু রয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের পরিচয় যাচাইয়ের পাশাপাশি পালানোর ঘটনায় কোনো মানবপাচারকারী বা দালালচক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন জানায়, ভাসানচর থেকে পালিয়ে মূল ভূখণ্ডে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রায়ই দালালচক্র সক্রিয় থাকে। তারা অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে দেওয়ার প্রলোভন দেয়। এ কারণে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি দালালচক্রের বিরুদ্ধে অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। অতীতেও এমন একাধিক ঘটনায় রোহিঙ্গা ও দালালদের আটক করা হয়েছে।
বর্তমানে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্পে এক লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। সেখানে নৌবাহিনী, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থা সমন্বিতভাবে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে। অনুমতি ছাড়া আশ্রয়কেন্দ্র ত্যাগের সুযোগ না থাকায় নিরাপত্তা বাহিনী নিয়মিত টহল ও নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আটক রোহিঙ্গাদের পুনরায় ভাসানচরের আশ্রয়কেন্দ্রে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় মানবপাচারকারী কোনো চক্রের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, কক্সবাজারের অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ কমাতে ২০২০ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে রোহিঙ্গাদের ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্পে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে সময়ে সময়ে কিছু রোহিঙ্গার পালানোর চেষ্টা এবং মানবপাচারকারী চক্রের তৎপরতার ঘটনা সামনে এসেছে।

0 মন্তব্যসমূহ