ডেস্ক রিপোর্টঃ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন কারাগারে হামলা, ভাঙচুর ও বিদ্রোহের সুযোগে পালিয়ে যাওয়া ২ হাজার ২৪৭ বন্দির মধ্যে এখনো ৬৯০ জন পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে নরসিংদী জেলা কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ১৬৬ বন্দির বিষয়ে কারা অধিদপ্তরের কাছে কোনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য বা নথি নেই।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কারা অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহার হোসেন।
কারা মহাপরিদর্শক জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে-পরে দেশের পাঁচটি কারাগারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মোট ২ হাজার ২৪৭ বন্দি পালিয়ে যান। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৫৫৭ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার বা ফেরত আনা হয়েছে। এখনো ৬৯০ জন পলাতক রয়েছেন।
পলাতক বন্দিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংখ্যাটি নরসিংদী জেলা কারাগারের। ওই কারাগার থেকে মোট ৮২৬ বন্দি পালিয়ে যান। তাদের মধ্যে ৬৬০ জনকে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তবে বাকি ১৬৬ বন্দির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
কারা মহাপরিদর্শকের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব ১৬৬ বন্দির পূর্ণাঙ্গ বন্দি-সংক্রান্ত নথিও কারা অধিদপ্তরের কাছে নেই। ফলে তাদের শনাক্ত ও অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে নয়জন জঙ্গিও ছিলেন। তাদের মধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও তিনজন এখনো পলাতক রয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
কারা মহাপরিদর্শক আরও জানান, কারাগারের ধারণক্ষমতার তুলনায় বর্তমানে বন্দির সংখ্যা অনেক বেশি। দেশের ৭৫টি কারাগারে প্রায় ৯৮ হাজার বন্দি রয়েছেন, যা বিদ্যমান ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ। অতিরিক্ত বন্দির চাপ কারা ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বন্দির সংখ্যা ও কারাগারের ধারণক্ষমতার মধ্যে বড় ব্যবধান কমাতে নতুন অবকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে দুটি কেন্দ্রীয় কারাগার ও চারটি জেলা কারাগার চালু করা হয়েছে বলে কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে।
এ ছাড়া কারা ব্যবস্থাপনায় জনবল সংকট মোকাবিলায় নতুন করে ১ হাজার ৮৯৯টি পদ অনুমোদনের কথাও জানানো হয়েছে।
কারা মহাপরিদর্শক বলেন, কারাগারের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের পাশাপাশি বন্দিদের আলাদা রাখার ব্যবস্থাও জোরদার করার চেষ্টা চলছে। ধারণক্ষমতার সংকটের কারণে অনেক সময় দুর্ধর্ষ ও সাধারণ আসামিদের পৃথক রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে বড় একটি অংশকে ইতোমধ্যে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। তবে ৬৯০ বন্দি এখনো পলাতক থাকা এবং নরসিংদীর ১৬৬ বন্দির নথি না থাকার বিষয়টি কারা নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ হিসেবে সামনে এসেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন