মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি: জামালপুরের মাদারগঞ্জে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির মামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে পাঁচ যুবককে গ্রেফতার করেছে মাদারগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত পাঁচজনের মধ্যে চারজনের বাড়ি উপজেলার বীর নাদাগাড়ী এলাকায় এবং অপর একজনের বাড়ি গাবেরগ্রাম এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদারগঞ্জ উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চুরির ঘটনায় তদন্তের অংশ হিসেবে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে অভিযান চালায় মাদারগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ।
অভিযানের সময় পাঁচ যুবককে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ট্রান্সফরমার চুরিতে ব্যবহৃত সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সরাসরি চুরির সঙ্গে জড়িত কি না, তদন্ত শেষে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সাম্প্রতিক সময়ে মাদারগঞ্জে ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। স্থানীয় ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২ জুলাই থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাদারগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের আওতাধীন এলাকায় অন্তত ২৬টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। চুরি যাওয়া এসব ট্রান্সফরমারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৭ লাখ টাকা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই মাসে ছয়টি, আগস্টে ১৭টি এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম পাঁচ দিনে তিনটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। এতে বিভিন্ন এলাকার মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন এবং নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন না হওয়া পর্যন্ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ট্রান্সফরমার চুরির কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকদের ভোগান্তি বেড়েছে। মাদারগঞ্জ পৌরসভার গাবেরগ্রাম আশ্রয়ণ প্রকল্পেও ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত ২৯ আগস্ট সেখানে ট্রান্সফরমার চুরির পর নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের জন্য অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় প্রকল্পের প্রায় ৪০টি পরিবার বিদ্যুৎ সংকটে পড়ে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে চোরেরা ট্রান্সফরমার খুলে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে চুরি ঠেকাতে রাতের টহল ও নজরদারি আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
পুলিশের এই অভিযানকে ট্রান্সফরমার চুরি বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। গ্রেফতারকৃত পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং চুরি করা মালামাল কোথায় সরবরাহ করা হতো—এসব বিষয়ে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চূড়ান্তভাবে চুরির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করা যাচ্ছে না। তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
এদিকে মাদারগঞ্জে ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন