ডেস্ক রিপোর্টঃ জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর পর এবার দেশের দূরপাল্লা ও মহানগর এলাকার বাসের ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দূরপাল্লা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে চলাচলকারী বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা করে বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নতুন ভাড়া অনুযায়ী, দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা হয়েছে। আর ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় বাসের ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। নতুন দরে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা, পেট্রল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা করা হয়েছে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে বাস পরিচালনার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে পরিবহন মালিকরা ভাড়া সমন্বয়ের দাবি তোলেন। এ নিয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএ কার্যালয়ে বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণ নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা এবং মহানগর ও শহর এলাকায় ১৮ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল।
পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ায় পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাসভাড়া বাড়ানো প্রয়োজন। তবে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রস্তাবিত হারের চেয়ে কমিয়ে উভয় ধরনের বাসে প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।
প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়ার অর্থ হলো দূরত্ব যত বেশি হবে, যাত্রীর মোট ভাড়াও তত বাড়বে।
উদাহরণ হিসেবে, কোনো যাত্রী ১০০ কিলোমিটার দূরত্বের পথে বাসে গেলে শুধু কিলোমিটারভিত্তিক হিসাবে আগের তুলনায় ১৭ টাকা বেশি দিতে হবে। ২০০ কিলোমিটারে অতিরিক্ত ভাড়া হবে ৩৪ টাকা, আর ৩০০ কিলোমিটারে ৫১ টাকা।
তবে বাস্তবে কোনো নির্দিষ্ট রুটে মোট ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে রুটের দূরত্ব, আসনসংখ্যা এবং প্রযোজ্য সড়ক বা সেতুর টোলসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় আসতে পারে। বিশেষ করে দূরপাল্লার কিছু নন-এসি বাসে আসনসংখ্যা কম থাকায় যাত্রীপ্রতি ভাড়া কিলোমিটারভিত্তিক মূল হারের চেয়ে বেশি হতে পারে।
এর আগে ভাড়া বৃদ্ধির আলোচনায় বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা এবং মিনিবাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ৮ টাকা অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছিল। নতুন ভাড়ার বিস্তারিত কাঠামো ও কোন শ্রেণির বাসে কীভাবে তা কার্যকর হবে, তা সরকারি প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হবে।
মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হলেও নতুন ভাড়া আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করার জন্য সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রয়োজন। মঙ্গলবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারির পর নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ার কথা।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল। তখন ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাসের ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৫৩ পয়সা এবং আন্তজেলা পথে ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ২৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।
ফলে কয়েক মাসের ব্যবধানেই জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে আবারও বাসভাড়া সমন্বয় করা হলো। নতুন ভাড়া কার্যকর হলে দূরপাল্লা ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহানগরে বাসে যাতায়াতকারী যাত্রীদের পরিবহন ব্যয় বাড়বে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন