নিজস্ব প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহ বাড়ির উঠানে মাটিচাপা দিয়ে প্রায় ২০ দিন ধরে তিনি সৌদি আরবে চলে গেছেন বলে প্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রহস্যের জট খুলে যায়। অভিযুক্তের দেখিয়ে দেওয়া স্থান খুঁড়ে উদ্ধার করা হয় স্ত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ। পুলিশ জানায়, নিহত জাহেদা বেগমের সঙ্গে স্বামী আলমগীর হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, গত ২০ জুন রাতের কোনো এক সময় পারিবারিক বিরোধের জেরে আলমগীর শ্বাসরোধ করে স্ত্রীকে হত্যা করেন। পরে গভীর রাতে বাড়ির উঠানে গর্ত খুঁড়ে মরদেহ পুঁতে রাখেন। ঘটনার পর সন্দেহ এড়াতে আলমগীর আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের জানান, জাহেদা কাজের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে চলে গেছেন। এমনকি বিষয়টিকে বিশ্বাসযোগ্য করতে তিনি রাজনগর থানায় গিয়ে স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করারও চেষ্টা করেন।
তবে জিডি করতে গিয়ে পুলিশের প্রশ্নের জবাবে আলমগীরের বক্তব্যে অসংগতি ধরা পড়ে। এতে তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও জোরালো হয়। পরে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং মরদেহ কোথায় পুঁতে রাখা হয়েছে, সেটিও দেখিয়ে দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরপর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বাড়ির উঠানে খননকাজ চালিয়ে মাটির নিচ থেকে জাহেদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ বলছে, হত্যার ঘটনায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত ছিলেন কি না এবং হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ কী—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। এদিকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন