বিজ্ঞান ডেস্ক: মানুষের তৈরি সবচেয়ে দূরবর্তী মহাকাশযান ভয়েজার-১ সৌরজগতের প্রভাব বলয়ের শেষ সীমা অতিক্রম করে ইতিহাস গড়েছে। ২০১২ সালে এটি হেলিওপজ (Heliopause) নামে পরিচিত একটি সীমানা পার হয়ে আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাকাশে প্রবেশ করে। যদিও জনপ্রিয় গণমাধ্যমে এই অঞ্চলকে অনেক সময় ‘অগ্নিপ্রাচীর’ (Wall of Fire) নামে উল্লেখ করা হয়, তবে এটি কোনো আনুষ্ঠানিক বৈজ্ঞানিক পরিভাষা নয়।
হেলিওপজ হলো সেই সীমারেখা, যেখানে সূর্য থেকে নির্গত সৌর বায়ুর প্রভাব শেষ হতে শুরু করে এবং আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাশূন্যের কণা ও চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাব বাড়তে থাকে। এই সীমানায় প্লাজমার তাপমাত্রা কয়েক হাজার থেকে কয়েক দশ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে। তবে এত উচ্চ তাপমাত্রা শুনে এটিকে আগুনের দেয়াল ভাবার সুযোগ নেই। কারণ ওই অঞ্চলের গ্যাস এতটাই পাতলা যে সেখানে তাপ বহন করার মতো কণার সংখ্যা অত্যন্ত কম। ফলে বাস্তবে কোনো মানুষ বা মহাকাশযান সেখানে গেলে পৃথিবীর আগুনের মতো তাপ অনুভব করবে না। বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করেন, তাপমাত্রা বেশি হলেও কণার ঘনত্ব অত্যন্ত কম হওয়ায় কার্যকর তাপ স্থানান্তর ঘটে না।
হেলিওপজ সৌরজগতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সীমানা। এটি আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাশূন্য থেকে আসা উচ্চ-শক্তির মহাজাগতিক বিকিরণের (Cosmic Rays) একটি অংশকে প্রতিহত করতে সহায়তা করে। যদিও সব বিকিরণ আটকানো সম্ভব নয়, তবুও এই অঞ্চল সৌরজগতের জন্য একটি সুরক্ষামূলক ঢাল হিসেবে কাজ করে। ১৯৭৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর উৎক্ষেপণ করা হয় ভয়েজার-১। কয়েক দশক ধরে এটি বৃহস্পতি ও শনি গ্রহসহ সৌরজগতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছে। বর্তমানে এটি পৃথিবী থেকে ২৫ বিলিয়ন কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থান করছে এবং এখনো পৃথিবীতে বৈজ্ঞানিক তথ্য পাঠিয়ে যাচ্ছে। এর সংগৃহীত তথ্যের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা সৌরজগতের সীমানা ও আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাকাশ সম্পর্কে নতুন নতুন তথ্য জানতে পারছেন।

0 মন্তব্যসমূহ