আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজেদের অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই বলেছেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই ছেড়ে দেবে না তেহরান। প্রয়োজনে অতীতের মতোই শক্ত অবস্থান বজায় রাখা হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে রেজাই বলেন, ইরান নিজেদের সক্ষমতা ও শক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে এবং ভবিষ্যতেও একই দৃঢ়তার সঙ্গে তা বজায় রাখবে। তার এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা চলছে। হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) একটি বড় অংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। ফলে এ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরান অতীতেও একাধিকবার সতর্ক করেছে, দেশের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ হুমকির মুখে পড়লে হরমুজ প্রণালিতে তাদের নীতি আরও কঠোর হতে পারে। যদিও বর্তমানে প্রণালিটি আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে, তবুও ইরানি কর্মকর্তাদের এমন বক্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরানের সাম্প্রতিক অবস্থান শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। কারণ বিশ্বের বহু দেশ তাদের জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে এই সমুদ্রপথের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তাই এ অঞ্চলে যেকোনো উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

0 মন্তব্যসমূহ