বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি।

মার্কিন নাগরিকদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নিরাপত্তা সংকট, আঞ্চলিক সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও নাগরিকদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা বিবেচনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত ও ভ্রমণরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য নতুন করে ‘Worldwide Caution’ (বৈশ্বিক সতর্কতা) জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বর্তমান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাতের বিস্তৃতি, আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য তৎপরতার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন নাগরিক ও যুক্তরাষ্ট্র-সম্পর্কিত স্থাপনাগুলো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

সতর্কবার্তায় বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা, জনসমাগমপূর্ণ এলাকা ও বিক্ষোভস্থল থেকে দূরে থাকা, স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজর রাখা এবং নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের নির্দেশনা অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ফ্লাইট বিলম্ব, আকাশসীমা বন্ধ কিংবা হঠাৎ ভ্রমণসূচি পরিবর্তনের মতো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও কিছু মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনা নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। এ কারণে বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সর্বশেষ বার্তা নিয়মিত অনুসরণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা পাওয়ার জন্য সরকারি ভ্রমণ নিবন্ধন ব্যবস্থায় (STEP) নিবন্ধনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ও বাণিজ্যিক রুটেও প্রভাব ফেলতে পারে। ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিমান নিরাপত্তা সংস্থা (EASA) উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের আকাশসীমা ব্যবহার নিয়ে নতুন সতর্কতা জারি করেছে। এতে বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমান উপসাগরের আকাশপথে উড্ডয়নের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিদেশ ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সর্বশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনা যাচাই করার পাশাপাশি নিজ দেশের সরকারি ভ্রমণ পরামর্শ অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ