বানিজ্য ডেস্ক: দেশের পুঁজিবাজারে মার্জিন ঋণ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ লক্ষ্যে মার্জিন বিধিমালার খসড়া সংশোধন প্রকাশ করে বিনিয়োগকারী, ব্রোকারেজ হাউস, মার্চেন্ট ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছ থেকে মতামত ও পরামর্শ চেয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বিএসইসি জানিয়েছে, ‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯’ এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩-এর বিধান অনুসারে নতুন কোনো বিধিমালা প্রণয়ন বা বিদ্যমান বিধিমালায় সংশোধন আনার আগে জনমত গ্রহণের সুযোগ রাখা বাধ্যতামূলক। সেই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই খসড়া সংশোধনীটি প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, খসড়া বিধিমালার বিষয়ে আগ্রহী ব্যক্তি, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, স্টক ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংক, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি এবং অন্যান্য অংশীজন প্রকাশের তারিখ থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে লিখিত মতামত, সুপারিশ কিংবা আপত্তি বিএসইসির কাছে পাঠাতে পারবেন। এসব মতামত পর্যালোচনা করেই বিধিমালার চূড়ান্ত রূপ নির্ধারণ করা হবে।
এর আগে মার্জিন বিধিমালার প্রস্তাবিত পরিবর্তন নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে নানা ধরনের আলোচনা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিএসইসি স্পষ্ট করে জানায়, কমিশনের সভায় কেবল খসড়াটি নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জনমত গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর কমিশনের চূড়ান্ত অনুমোদনের মাধ্যমেই নতুন বিধিমালা কার্যকর হবে।বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্জিন ঋণ সংক্রান্ত নীতিমালায় সময়োপযোগী পরিবর্তন আনা গেলে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা, ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিএসইসি সংশ্লিষ্ট সবাইকে খসড়া বিধিমালা পর্যালোচনা করে গঠনমূলক মতামত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে চূড়ান্ত নীতিমালা আরও বাস্তবসম্মত, কার্যকর এবং বাজারের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

0 মন্তব্যসমূহ