প্রগতি ডেস্ক: দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের পর্যটন ভিসা কার্যক্রম আবারও চালু হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভিসা আবেদন বাড়েনি। বরং ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর দাবি, ভিসা চালুর পরও পর্যটন ভিসার আবেদন আশানুরূপ না হওয়ায় দেশের ট্রাভেল ও ট্যুরিজম খাত এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ট্রাভেল এজেন্সি সংশ্লিষ্টরা জানান, ভিসা চালুর ঘোষণার পর অনেকেই আবেদন করবেন বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই চিত্র দেখা যাচ্ছে না। প্রতিদিন সীমিত সংখ্যক আবেদন জমা পড়ছে, যা আগের সময়ের তুলনায় অনেক কম। পর্যটন খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ভিসা আবেদন কম হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ বিমান ভাড়া, হোটেল ও অন্যান্য ভ্রমণ ব্যয়ের বৃদ্ধি, ডলার সংকটের কারণে বিদেশ ভ্রমণের খরচ বেড়ে যাওয়া এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপ। এসব কারণে অনেকেই বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রেখেছেন।
এ ছাড়া অতীতে ভিসা কার্যক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা, আবেদন প্রক্রিয়ায় জটিলতা এবং ভিসা অনুমোদন নিয়ে অনিশ্চয়তাও অনেক ভ্রমণপ্রত্যাশীকে নিরুৎসাহিত করেছে। ফলে ভিসা চালু হলেও আগের মতো উৎসাহ দেখা যাচ্ছে না। ট্রাভেল ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যটন ভিসা স্বাভাবিকভাবে চালু থাকলেও মানুষের আস্থা পুরোপুরি ফিরতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। পাশাপাশি ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করা গেলে আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়তে পারে।
তাদের আশা, আগামী কয়েক মাসে পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হলে পর্যটন ভিসার আবেদন বাড়বে। এতে শুধু ভ্রমণপ্রেমীরাই নয়, ট্রাভেল এজেন্সি, বিমান সংস্থা, হোটেল এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতও নতুন করে গতি ফিরে পাবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুই দেশের মধ্যে পর্যটন ও মানুষের যাতায়াত বাড়াতে সহজ ভিসা ব্যবস্থা, দ্রুত আবেদন নিষ্পত্তি এবং ভ্রমণবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পর্যটন খাত আবারও আগের অবস্থানে ফিরতে সক্ষম হবে।

0 মন্তব্যসমূহ