মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আরও একজন মার্কিন সেনা নিখোঁজ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সেন্টকমের এক বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার সময় জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন ও মিত্র বাহিনী ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার চেষ্টা করছিল। ওই প্রতিরক্ষা অভিযানের মধ্যেই দুই সেনা নিহত হন এবং একজন নিখোঁজ হন। আহত চার সেনাকে জর্ডানের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন সামান্য আহত সেনা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে আবার দায়িত্বে ফিরেছেন। নিহত সেনাদের পরিচয় পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে সরাসরি ইরানি হামলায় মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার এটি অন্যতম গুরুতর ঘটনা। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, ড্রোন সংরক্ষণাগার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন দফায় বিমান হামলা চালায়। ওয়াশিংটনের দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা ঠেকানো এবং মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব পাল্টা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাব হিসেবেই জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। তেহরান আরও সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখে, তাহলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। জর্ডান, কুয়েত, ইরাক ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৬ জন মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। একই সঙ্গে শতাধিক সেনা আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে এবং দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে।

0 মন্তব্যসমূহ