ডেস্ক রিপোর্ট : যমুনা নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের দাবি আবারও উঠেছে জাতীয় সংসদে। জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল এ বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করলে সরকার জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার (ফিজিবিলিটি স্টাডি) কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সংসদে দেওয়া তথ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর একটি। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মাস্টারপ্ল্যানেও ২০৩৩ সালের মধ্যে এ সেতু বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমানে বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের অন্যতম প্রধান পথ। তবে যানবাহনের সংখ্যা বাড়ার কারণে বিদ্যমান চার লেনের সেতুটিতে বিভিন্ন সময়ে যানজট ও পরিবহন চাপ তৈরি হচ্ছে। এই চাপ কমাতে যমুনা নদীর ওপর একটি বিকল্প সেতুর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এদিকে দ্বিতীয় যমুনা সেতুর সম্ভাব্য অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে একাধিক প্রস্তাব আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে জামালপুরের মাদারগঞ্জ ও বগুড়ার সারিয়াকান্দির মধ্যে সংযোগ স্থাপনের দাবিও স্থানীয়ভাবে জোরালো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন সেতু নির্মাণ হলে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ হবে এবং কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পখাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে সরকার আরও জানায়, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সমীক্ষা শেষে প্রকল্পের পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করা হবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, যমুনা নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ হলে বিদ্যমান সেতুর ওপর চাপ কমার পাশাপাশি দেশের উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হবে। তবে বড় এই অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়ন, কারিগরি পরিকল্পনা ও পরিবেশগত বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন