লোহিত সাগর থেকে ক্যাস্পিয়ান সাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে ইরান যুদ্ধ।

ইরান যুদ্ধ লোহির ক্যাম্পিয়ান সাগর

 আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত নতুন ভৌগোলিক মাত্রা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও যুদ্ধের প্রভাব এবার লোহিত সাগর (Red Sea) এবং ক্যাস্পিয়ান সাগর (Caspian Sea) পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এর ফলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক নৌপথ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধারা লোহিত সাগর উপকূলে সৌদি আরবের জিজান ও ইয়ানবুর তেল স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইয়ানবুর দিকে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। হামলার জবাবে সৌদি-সমর্থিত বাহিনী ইয়েমেনে হুথিদের অবস্থানে পাল্টা বিমান হামলা চালিয়েছে। এর ফলে ২০২২ সালের পর তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকা ইয়েমেন পরিস্থিতিও আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

একই সময়ে সংঘাতের আরেকটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে ক্যাস্পিয়ান সাগরে। ইরানের দাবি, ইউক্রেনের হামলায় ক্যাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একজন নাবিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে তেহরান ইউক্রেনের কূটনীতিকদের তলব করে এবং ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন ও ‘শত্রুতাপূর্ণ কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তখনও পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র টানা কয়েক দিনের বিমান হামলার পর আপাতত নতুন হামলা স্থগিত রেখে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে তাদের নৌ অবরোধ কার্যকর রয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের প্রভাব এখন বিশ্বের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোর—হরমুজ প্রণালি, লোহিত সাগর ও ক্যাস্পিয়ান অঞ্চল—জুড়ে বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হতে পারে, তেল পরিবহনের ব্যয় বাড়তে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির বিকল্প রুটও হুমকির মুখে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত যদি আরও বিস্তৃত হয়, তবে এটি কেবল মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নয়, ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার বাণিজ্যিক রুট, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্যও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে দ্রুত উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনায় ফেরানোর আহ্বান জানাচ্ছে আন্তর্জাতিক মহল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ