আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে ইরান একযোগে উপসাগরীয় অঞ্চলের পাঁচটি দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করলেও কিছু স্থানে বিস্ফোরণ, অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান চালানো হয়েছে। তেহরানের দাবি, হামলাগুলো কেবল মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও তাদের ব্যবহৃত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এ হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, তারা মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এদিকে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা হরমুজ প্রণালি ঘিরেও উত্তেজনা বেড়েছে। ইরান প্রণালির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নৌপথ সচল রাখতে তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে চলাচল অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে।এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশ সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের পাশাপাশি সংঘাত যেন আরও বিস্তৃত আকার ধারণ না করে, সে জন্য আন্তর্জাতিক মহল শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

0 মন্তব্যসমূহ