ডেস্ক রিপোর্ট: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি যৌথ অভিযানে ফলের ক্যারেটের ভেতর বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১৬০টি স্বর্ণবার জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের মোট ওজন ১৮ দশমিক ৭২০ কেজি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা।বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২ জুলাই সকালে দুবাই-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে চলাচলকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৪৮ ফ্লাইটে অভিযান চালানো হয়। প্রথমে উড়োজাহাজের কার্গো হোল্ডে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১৫ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। পরে আরও বিস্তৃত অনুসন্ধানে মোট ১৬০টি স্বর্ণবার উদ্ধার হয়, যার মোট ওজন দাঁড়ায় ১৮.৭২০ কেজি। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) স্বর্ণ পাচারের সম্ভাব্য তথ্য পাওয়ার পরপরই এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক), কাস্টমস এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নিরাপত্তা বিভাগের সমন্বয়ে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। তল্লাশির সময় কার্গো হোল্ডে ফল পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ক্যারেটের মধ্যে অত্যন্ত নিপুণভাবে লুকিয়ে রাখা স্বর্ণবারগুলো উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের চালান পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রকে শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক স্বর্ণ চোরাচালান রোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে চোরাকারবারিরা উড়োজাহাজের কার্গো হোল্ড, টয়লেট, ট্রলি, ব্যাটারি, বেল্ট, ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশসহ নানা কৌশলে স্বর্ণ পাচারের চেষ্টা করলেও নিয়মিত অভিযান ও তল্লাশির মাধ্যমে এসব চালান জব্দ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, বিমানবন্দরকে স্বর্ণ চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহার বন্ধে সব সংস্থার সমন্বিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে এ ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল চোরাচালান চক্রকে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ