আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে প্রকাশ্যে আসা ১১০টি ভিডিওকে কেন্দ্র করে নড়েচড়ে বসেছে দিল্লি হাইকোর্ট। ঘটনাটির ব্যাখ্যা চেয়ে কেন্দ্র সরকার ও দিল্লি পুলিশের প্রতি রুল (নোটিশ) জারি করেছেন আদালত। পাশাপাশি মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের ভিডিও ফুটেজ, সিসিটিভি রেকর্ডিং ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ একাধিক জনস্বার্থ আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালত কেন্দ্র সরকার ও দিল্লি পুলিশকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হলফনামা আকারে তাদের বক্তব্য জমা দিতে বলেছেন।
আবেদনকারীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রায় ১১০টি ভিডিওতে লাঠিচার্জ, মারধর এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের কঠোর আচরণের বিভিন্ন দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়। এসব ভিডিও আদালতের নজরেও আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের পক্ষে আদালতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওগুলোর সত্যতা এখনো যাচাই করা হয়নি। তাই কেবল এসব ভিডিওর ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সরকারি সম্পদ সুরক্ষায় তারা দায়িত্ব পালন করেছে।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর দিল্লি হাইকোর্ট জানিয়েছেন, এ পর্যায়ে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আদালত কোনো মন্তব্য করছে না। তবে ভবিষ্যতে তদন্ত বা বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বার্থে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ভিডিও, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ করা জরুরি। সে কারণেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারতে পুলিশি বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে এই মামলাটি ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আদালতের পরবর্তী শুনানিতে কেন্দ্র সরকার ও দিল্লি পুলিশের জবাবের ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে।

0 মন্তব্যসমূহ