ডেস্ক রিপোর্ট: প্লট বরাদ্দের নামে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা এবং সেই অর্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানান্তর ও রূপান্তরের অভিযোগে বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), চেয়ারম্যান ও এক পরিচালকসহ তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৭টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বুধবার (২২ জুলাই) সিআইডি জানায়, ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের দীর্ঘ অনুসন্ধানে প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর বনানী থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫) অনুযায়ী মামলাটি করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের এমডি মো. মিজানুর রহমান, চেয়ারম্যান তানিয়া সুলতানা তানভী এবং পরিচালক মো. মোমেন। পাশাপাশি তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৭টি প্রতিষ্ঠানকেও মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সিআইডির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় প্লট বিক্রির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কিস্তিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও অনেক গ্রাহককে প্রতিশ্রুত প্লট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি, এমনকি জমা দেওয়া অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি। তদন্তে অন্তত ৩৭ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ৭ কোটি ২ লাখ ৬৭ হাজার ৬০৪ টাকা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থের একটি বড় অংশ অভিযুক্তদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে জমা, উত্তোলন, স্থানান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে। সিআইডি মোট ৮২টি ব্যাংক হিসাবের লেনদেন পর্যালোচনা করে শত শত কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে, যা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।
সিআইডি জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে অর্থের প্রকৃত উৎস, স্থানান্তরের পদ্ধতি, জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং প্রতারণার শিকার আরও গ্রাহক রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

0 মন্তব্যসমূহ