প্রগতি বার্তা
ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...
00:00:00

ছোট দাবি থেকে বড় আন্দোলন! ভারতে কি শুরু হলো আরেক ‘জুলাই’?

জুলাই থেকে জুলাই


বিশেষ প্রতিনিধি:  ভারতে একটি তুলনামূলক ছোট ইস্যু থেকে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন এখন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ও সরকারি চাকরির বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, শিক্ষাব্যবস্থায় অনিয়ম, বেকারত্ব এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিয়ে ক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।

সাম্প্রতিক কয়েক দিনে রাজধানী নয়াদিল্লিসহ মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, কলকাতা ও আরও কয়েকটি বড় শহরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তরুণ বিক্ষোভে অংশ নেন। সংসদ ভবন অভিমুখে মিছিল, অবস্থান কর্মসূচি এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। বেশ কয়েকটি স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। এতে শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এই আন্দোলনের অন্যতম কারণ হিসেবে বারবার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, দায়ীদের বিচার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছেন। আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ভারতের বিরোধী দলগুলোর নেতারাও মাঠে নেমেছেন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বিক্ষোভে অংশ নিয়ে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য আটক হন, যা আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে "Cockroach" নামে পরিচিত এই তরুণদের আন্দোলন শুরু হয় একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। পরে সেটি দ্রুত সংগঠিত গণআন্দোলনের রূপ নেয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, এটি শুধু একটি পরীক্ষা বা একটি ঘটনার প্রতিবাদ নয়; বরং দীর্ঘদিনের শিক্ষা সংকট, বেকারত্ব ও সুযোগের বৈষম্যের বিরুদ্ধে তরুণদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
এদিকে, ভারতের পার্লামেন্টেও এই আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে। বিরোধী দলগুলো শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সংসদে বিক্ষোভ করেছে। 

তবে সরকার জানিয়েছে, পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং অনিয়ম ঠেকাতে নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যদিও আন্দোলনকারীরা বলছেন, কেবল আশ্বাস নয়, তারা দৃশ্যমান পদক্ষেপ চান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন শুরুতে একটি নির্দিষ্ট দাবিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠলেও এখন তা বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক অসন্তোষের প্রতীক হয়ে উঠছে।

 তবে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের সঙ্গে এর সরাসরি তুলনা করার মতো পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি। যদিও আন্দোলনের ব্যাপ্তি, তরুণদের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং সরকারের ওপর বাড়তে থাকা চাপের কারণে অনেকেই এটিকে ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মোড় হিসেবে দেখছেন।
বর্তমানে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আন্দোলনকারীদের কর্মসূচির ওপর নির্ভর করবে এটি কেবল শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি আরও বিস্তৃত রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেবে।
 

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন
📢 আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন
প্রগতি বার্তা
আপনার ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের প্রচার করুন
হাজারো পাঠকের কাছে পৌঁছে দিন আপনার বিজ্ঞাপন
progatibarta.com

💬 WhatsApp এ যোগাযোগ করুন
সরাসরি যোগাযোগ: ০১৩০৯০৮১৪৯০

𝑷𝒓𝒐𝒈𝒂𝒕𝒊𝑩𝒂𝒓𝒕𝒂

প্রগতি বার্তা
সত্যের সন্ধানে নির্ভীক