প্রগতি ডেস্ক: দেশে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির প্রবণতা বন্ধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে ওঠা অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ঠেকাতে শিগগিরই দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ অভিযানে অনিয়মে জড়িত ফার্মেসি ও ওষুধ বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ) সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে। নিবন্ধিত ফার্মেসিগুলো নিয়ম মেনে ওষুধ বিক্রি করছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি করা হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং জরিমানাসহ অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজন ছাড়া বা ভুলভাবে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের ফলে জীবাণু ধীরে ধীরে ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। এর ফলে ভবিষ্যতে সাধারণ সংক্রমণও জটিল আকার ধারণ করতে পারে এবং কার্যকর চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (WHO) অ্যান্টিবায়োটিকের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্ব দিয়ে আসছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু অভিযান চালালেই হবে না, সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বাড়াতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়া এবং ফার্মেসিগুলোকে প্রেসক্রিপশন ছাড়া এসব ওষুধ বিক্রি থেকে বিরত থাকতে হবে। সরকারের আশা, কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার কমানো সম্ভব হবে। এতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করাও সহজ হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন