প্রযুক্তি ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির বিকল্প প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চললেও এবার নতুন আলোচনায় এসেছে তথাকথিত ‘ওয়াটার ব্যাটারি’। চীনের একদল গবেষক দাবি করেছেন, পানি-ভিত্তিক নতুন ধরনের ব্যাটারি প্রযুক্তি ভবিষ্যতে প্রচলিত লিথিয়াম ব্যাটারির বিকল্প হতে পারে। তাদের মতে, বিশেষ পরিস্থিতিতে এই ব্যাটারির কার্যক্ষমতা ৩০০ বছর পর্যন্ত বজায় রাখা সম্ভব। গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তিতে দাহ্য জৈব ইলেক্ট্রোলাইটের পরিবর্তে পানি-ভিত্তিক (aqueous) ইলেক্ট্রোলাইট ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে আগুন লাগার ঝুঁকি তুলনামূলক কম এবং নিরাপত্তা বেশি হতে পারে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে শক্তি সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে গবেষণায় উল্লেখিত ‘৩০০ বছর’ বিষয়টি সাধারণ মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপের মতো দৈনন্দিন ব্যবহারের ব্যাটারির আয়ুষ্কাল বোঝায় না। এটি মূলত নির্দিষ্ট গবেষণাগার পরিবেশে অত্যন্ত কম হারে শক্তি ক্ষয় (self-discharge) এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ সক্ষমতার তাত্ত্বিক হিসাব বা পরীক্ষার ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পানি-ভিত্তিক ব্যাটারি প্রযুক্তি নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব হওয়ায় ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ গ্রিড, নবায়নযোগ্য জ্বালানির শক্তি সংরক্ষণ এবং শিল্পক্ষেত্রে এর ব্যবহার বাড়তে পারে। তবে প্রযুক্তিটি এখনও গবেষণা ও উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক উৎপাদন ও বাজারজাত করার আগে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বাস্তব ব্যবহারিক মূল্যায়ন প্রয়োজন।
বর্তমানে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও বৈদ্যুতিক গাড়িতে ব্যবহৃত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির শক্তি ঘনত্ব এখনও পানি-ভিত্তিক ব্যাটারির তুলনায় বেশি। তাই নিকট ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত ইলেকট্রনিক ডিভাইসে লিথিয়াম ব্যাটারির পরিবর্তে ওয়াটার ব্যাটারি ব্যবহারের সম্ভাবনা সীমিত হলেও, বড় আকারের শক্তি সংরক্ষণ ব্যবস্থায় এটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গবেষণাটি সফলভাবে বাণিজ্যিক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারলে নিরাপদ, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। তবে ‘৩০০ বছর কার্যক্ষম’ দাবিটি এখনও গবেষণার ফলাফল; বাস্তব ব্যবহারে এটি প্রমাণিত বা বাণিজ্যিকভাবে নিশ্চিত নয়।

0 মন্তব্যসমূহ