আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের নেতৃত্বে। দায়িত্ব গ্রহণের পরই তিনি মন্ত্রিসভায় ব্যাপক রদবদল করেন। এই পরিবর্তনের মধ্যেই অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন র্যাচেল রিভস, যিনি দেশটির ইতিহাসে প্রথম নারী চ্যান্সেলর অব দ্য এক্সচেকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সোমবার (২০ জুলাই) নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে রিভস বলেন, নতুন সরকারের প্রতি তাঁর পূর্ণ সমর্থন থাকবে। তিনি প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের নেতৃত্বে যুক্তরাজ্যের অগ্রগতি কামনা করেন এবং সংসদ সদস্য হিসেবে দেশের মানুষের জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বার্নহাম সরকার গঠনের পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলিকে। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভায় আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন দলে অভিজ্ঞ ও নতুন মুখের সমন্বয়ে অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, পররাষ্ট্র এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা খাতে নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে সরকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রদবদল কেবল ব্যক্তি পরিবর্তন নয়; বরং সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকারেও নতুন বার্তা দিচ্ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং জনসেবার মানোন্নয়নকে সামনে রেখে নতুন অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে বার্নহাম প্রশাসন।
র্যাচেল রিভসের নেতৃত্বে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি নিয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাজেট ও রাজস্ব সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের ফলে এখন নতুন অর্থমন্ত্রী জন হিলির সামনে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ব্যবসায়িক আস্থা পুনরুদ্ধারের মতো বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। এদিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেছেন, তাঁর সরকার দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আঞ্চলিক বৈষম্য কমানো এবং জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সেই লক্ষ্যেই নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, মন্ত্রিসভার এই বড় রদবদল আগামী কয়েক মাসে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক নীতি ও প্রশাসনিক কর্মকৌশলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। ফলে নতুন সরকারের প্রথম দিকের সিদ্ধান্তগুলোর দিকে এখন নজর থাকবে দেশটির রাজনৈতিক মহল, ব্যবসায়ী সমাজ এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন