আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে হুতি গোষ্ঠীর বিভিন্ন অবস্থান ও সামরিক তৎপরতা লক্ষ্য করে ২০টি বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী। শুক্রবার (২ অক্টোবর) ইয়েমেনের সামরিক মুখপাত্র মেজর জেনারেল মাজেদ আল-নুজাইলি এ তথ্য জানিয়েছেন।
সামরিক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে এসব বিমান হামলা চালানো হয়। হুতিদের চলাচল, সামরিক শক্তিবৃদ্ধি, সমাবেশ, সদস্য, সামরিক যান ও বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জামকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
সামরিক মুখপাত্র দাবি করেছেন, হামলাগুলোতে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে এবং হুতিদের জনবল, সামরিক সরঞ্জাম ও চলাচলে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা কোনো সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাইজের হুমাইর, বানি বাকারি, সামা, আল-আকরুদ, ৬০তম সড়ক, আল-আমুর, মিদি বানি হাসান এবং আল-ওয়াজিয়াহ এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবারও তাইজ প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। সরকারি বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সংঘর্ষের পাশাপাশি বিমান হামলাও চালানো হয়েছে।
তাইজ সামরিক অঞ্চলের গণমাধ্যম কেন্দ্র জানিয়েছে, প্রদেশটির বিভিন্ন ফ্রন্টে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। বিশেষ করে তাইজ শহরের উত্তরাঞ্চলসহ কয়েকটি ফ্রন্টে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী এর আগের দিনও তাইজের বিভিন্ন হুতি অবস্থানে ১৫টি বিমান হামলা চালানোর কথা জানিয়েছিল। তখন হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রস ধুরাইজ, আল-আমুর, জাশ আতাওর, রস হামি এবং হায়ফান এলাকার একটি অবস্থানের কথা বলা হয়।
তাই নতুন করে ২০টি বিমান হামলার ঘটনা তাইজে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইয়েমেনে ২০১৪ সাল থেকে হুতি গোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে সংঘাত চলছে। হুতিরা রাজধানী সানা ও দেশটির বেশ কিছু এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থন দিয়ে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করে।
২০২২ সালের জাতিসংঘ-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির পর কয়েক বছর তুলনামূলকভাবে সংঘাত কম থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনে আবারও বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে এটিকে ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুতিদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর উত্তেজনাগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইয়েমেনের তাইজ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রদেশ। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত এই এলাকার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চল এবং দক্ষিণ ইয়েমেনের দিকে যাতায়াতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পাওয়া সম্ভব।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তাইজে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হলে লোহিত সাগরের উপকূলের ওপর তাদের প্রভাব বাড়তে পারে এবং দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর এডেনের দিকে যাওয়ার পথেও কৌশলগত সুবিধা তৈরি হতে পারে।
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর পক্ষ থেকে ২০টি বিমান হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির দাবি করা হলেও এ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত হুতি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এসব হামলা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে সরকারি বাহিনীর দাবি করা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে তাইজসহ ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত বাড়তে থাকায় নতুন করে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও বাস্তুচ্যুতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ রয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন